মাত্র ৭ দিনের মেডিটেশনে বদলে যাচ্ছে ব্রেন ও ইমিউন সিস্টেম, চমকপ্রদ তথ্য দিল নতুন গবেষণা

মেডিটেশন বা ধ্যান যে মনের জন্য ভালো, তা দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা দাবি করছে, মাত্র এক সপ্তাহের মাইন্ড-বডি প্র্যাকটিস মানুষের মস্তিষ্ক এবং শরীরে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। ‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র সাত দিনের নিয়মিত মেডিটেশন মস্তিষ্কের নমনীয়তা বা নিউরোপ্লাস্টিসিটি বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মেটাবলিজম সক্রিয় করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিউরোসায়েন্স গবেষক জো ডিসপেনজার নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০ জন সুস্থ ব্যক্তির ওপর এক সপ্তাহের নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।
গবেষণার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে গাইডেড মেডিটেশন ও গ্রুপ হিলিং সেশনে অংশ নেন। রিট্রিট পরবর্তী fMRI স্ক্যান ও রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁদের মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয় চিন্তার কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বেড়েছে। সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, অংশগ্রহণকারীদের রক্তে এমন কিছু জৈবিক সূচক পাওয়া গেছে যা নিউরোনকে নতুন সংযোগ তৈরিতে উৎসাহিত করে এবং শরীরের শর্করার বিপাক প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। একে গবেষকরা ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলো কোনো ওষুধের সাহায্য ছাড়াই অর্জিত হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধ্যানের ফলে শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক রাসায়নিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সংকেতগুলো আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়। অংশগ্রহণকারীরা গভীর মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন, যা তাঁদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সাহায্য করেছে। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং মানসিক অবসাদ দূর করতে আগামী দিনে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।