মৃত্যুর মুখেও বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন খামেনেই, নেপথ্য কাহিনী জানালেন সহযোগী

মৃত্যুর মুখেও বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন খামেনেই, নেপথ্য কাহিনী জানালেন সহযোগী

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ২০২৬’-এ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর জীবনের শেষ দিনগুলোর অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুল মজিদ হাকিম ইলাহি। তিনি জানান, তেহরানে চরম উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক মহলের হুমকি সত্ত্বেও খামেনেই নিজের সাধারণ বাসভবন ছেড়ে কোনো নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাঙ্কারে যেতে রাজি হননি। নিজের নিরাপত্তার চেয়ে দেশবাসীর সুরক্ষাকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ বাঙ্কার তৈরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে খামেনেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যদি ইরানের ৯ কোটি মানুষের জন্য পৃথক বাঙ্কারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়, তবেই তিনি নিজের জন্য এমন সুবিধা গ্রহণ করবেন। তিনি মনে করতেন, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে একজন নেতার নিরাপদ জীবন বেছে নেওয়া নৈতিকভাবে অনুচিত। জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়েই তিনি তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত তেহরানে অবস্থান করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

ইলাহি আরও জানান, খামেনেইর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়ে নয়, বরং ‘শহিদ’ হিসেবে মৃত্যুবরণ করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের সরকারি কম্পাউন্ডে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় তিনি প্রাণ হারান। বাঙ্কার-ধ্বংসী বোমার আঘাতে তাঁর মৃত্যু হলেও, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আদর্শ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তিনি কোনো সুরক্ষিত আশ্রয়ের সাহায্য নেননি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *