রক্ত থাকতে বাংলাকে বাংলাদেশ হতে দেব না, হুঙ্কার দিয়ে ওয়াইসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ মিঠুন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়াতে শুরু করেছেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপির হয়ে প্রচারে নেমে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দরাজ প্রশংসা করে নতুন জল্পনা উসকে দিলেন এই মহাতারকা। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, শরীরে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গকে কেউ বাংলাদেশ হতে দিতে পারবে না। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সুরেই তিনি দাবি করেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে বিজেপি সমর্থকদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিঠুন। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য। হায়দরাবাদের সাংসদকে ‘আসল নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে মিঠুন বলেন, ওয়াইসি অত্যন্ত শিক্ষিত এবং বিচক্ষণ একজন ব্যক্তিত্ব। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপি কোনোভাবেই মুসলিম বিরোধী নয়; বরং যারা ভারতে থেকে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, দল কেবল তাদেরই বিরোধিতা করে। মাদ্রাসায় বিপুল আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান বিশৃঙ্খলা দূর করতে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে মহাগুরু জানান, এবার বিজেপি ‘ভূমিপুত্র’ বা স্থানীয় প্রার্থীদের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, যা জয়ের পথকে প্রশস্ত করবে। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে স্থানীয় যোগ্য মানুষরা কর্মসংস্থান ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিধানসভা ভোটের মুখে মিঠুনের এই ‘বাংলাদেশ’ মন্তব্য এবং ওয়াইসি স্তুতি যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দেবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, মহাগুরুর এই জোরালো বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাসক শিবির ঠিক কী প্রতিক্রিয়া জানায়।