রান্নার গ্যাসের সংকটে বিকল্প ডায়েট, পুষ্টি ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন মেনু

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে এলপিজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় বেঙ্গালুরুসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহে, যার ফলে মেস, পিজি এবং ছোট হোটেলগুলো পরিষেবা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ, যারা প্রতিদিনের খাবারের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক মেস কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পদের সংখ্যা কমিয়ে মেনু ছোট করে ফেলছেন।
এই সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি বাঁচাতে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পুষ্টিবিদরা কম সময়ে রান্না করা যায় এমন স্বাস্থ্যকর খাবারের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রাতঃরাশে চিঁড়ের পোলাও, উপমা বা সেদ্ধ ডিমের মতো পদ দ্রুত তৈরি হয় এবং দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়। দুপুরে প্রেশার কুকারে তৈরি ডাল-ভাত বা সবজি খিচুড়ি একদিকে যেমন গ্যাস সাশ্রয় করে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ফাইবার ও ভিটামিনের জোগান দেয়। এছাড়া খাবারে দই ও সালাদ রাখলে কোনো জ্বালানি ছাড়াই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ সম্ভব।
রাতের খাবারে হালকা ও সহজে হজমযোগ্য রুটি-সবজি বা ডাল স্যুপ বেছে নেওয়া কার্যকর বিকল্প হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাছ বা ডিমের ঝোল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে রান্না করলে একদিকে যেমন সীমিত গ্যাসেও রসুইঘর সচল রাখা সম্ভব, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অটুট থাকে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাদ্যতালিকাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।