শুধু মিষ্টি ছাড়লেই কমবে না সুগার! ডায়াবেটিস ‘রিভার্স’ করার ৫টি গোপন কৌশল ফাঁস করলেন ডাক্তার

ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, শুধুমাত্র মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডাল-ভাত খাওয়া বন্ধ করলেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি এতোটা সহজ নয়। জেনারেল ফিজিশিয়ান ডা. শালিনী সিং সালুঙ্কে জানিয়েছেন যে, জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন ছাড়া ডায়াবেটিস স্থায়ীভাবে রিভার্স বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
ডায়াবেটিস রিভার্স করার মূল চাবিকাঠি
ডা. শালিনী সিং সালুঙ্কের মতে, ডায়াবেটিসকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচটি মেটাবলিক ট্রিগার বা বিপাকীয় বিষয়ের ওপর নজর দেওয়া জরুরি। এগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমানো এবং সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া সম্ভব।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। চিকিৎসকের দেওয়া প্রধান পরামর্শগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- ডায়েটে ফাইবার ও প্রোটিন: খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার ও প্রোটিন রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফাইবার এবং প্রোটিন রক্তে শর্করার শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, ফলে হঠাৎ করে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
- মাসল বিল্ডিং ও স্ট্রেন্থ ট্রেনিং: পেশি গঠন বা মাসল বিল্ডিং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। পেশি গ্লুকোজ সঞ্চয় করে এবং তা পোড়াতে সাহায্য করে। শরীরে পেশির পরিমাণ যত বাড়বে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা তত কমবে।
- পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়িয়ে দেয়, যা ফাস্টিং সুগার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই প্রতিদিন উন্নত মানের গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
- খাওয়ার পর হাঁটা: রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা উচিত। এটি পেশিতে গ্লুকোজের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়।
- মানসিক চাপ কমানো: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি সুগার লেভেল বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তাই মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অপরিহার্য।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
কিছু নির্দিষ্ট খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। সুস্থ থাকতে নিচের খাবারগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন:
- চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি কফি এবং প্যাকেটজাত ফলের রস।
- রিফাইন করা কার্বোহাইড্রেট যেমন সাদা পাস্তা, সাদা চাল এবং সাদা পাউরুটি।
- অতিরিক্ত স্টার্চযুক্ত খাবার এবং শুকনো ফল (ড্রায়েড ফ্রুটস)।
- চিনিযুক্ত ডেজার্ট এবং কুকিজ।
একঝলকে
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু মিষ্টি ছাড়লে হবে না, প্রয়োজন সামগ্রিক মেটাবলিক পরিবর্তন।
- ডায়েটে ফাইবার এবং প্রোটিনের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
- প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা ও পেশি গঠনের দিকে নজর দিন।
- খাওয়ার পর অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- মানসিক চাপমুক্ত থাকুন এবং দৈনিক পর্যাপ্ত সময় ঘুমান।