সতর্কতা! পেটের এই ৫টি সমস্যা হতে পারে কোলন ক্যান্সারের পূর্বাভাস; অবহেলা করবেন না

সতর্কতা! পেটের এই ৫টি সমস্যা হতে পারে কোলন ক্যান্সারের পূর্বাভাস; অবহেলা করবেন না

বর্তমান সময়ের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের ফলে পেটের সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। তবে পেটের সাধারণ কোনো অস্বস্তি সব সময় সাধারণ না-ও হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, পেটের সামান্য কিছু জটিলতা আসলে কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোলন বা মলাশয়ের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে সচেতনতার অভাবে অনেকেই এই মরণব্যাধির প্রাথমিক সংকেতগুলো এড়িয়ে যান।

শরীরের দেওয়া কিছু বিশেষ সংকেত বা ‘রেড সিগন্যাল’ চিনে নেওয়া জরুরি যা কোলন ক্যান্সারের ইঙ্গিত দেয়:

শৌচকার্যের অভ্যাসে আকস্মিক পরিবর্তন

যদি দীর্ঘ সময় ধরে আপনার মলত্যাগের অভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে সেটি চিন্তার বিষয় হতে পারে। কোলন ক্যান্সার হলে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

  • বেশ কয়েক দিন ধরে টানা ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়া।
  • দীর্ঘ সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগা।
  • মলের আকার বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসা।

মলের সাথে রক্তপাত

মলাশয়ে টিউমার থাকলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। এটি কোলন ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই মলদ্বারের রক্তপাতকে পাইলস বা অর্শ ভেবে ভুল করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন। মলের রং গাঢ় লাল বা কালো হওয়া এবং মলত্যাগের সময় রক্ত আসা বড় কোনো বিপদের লক্ষণ হতে পারে।

পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি

মলত্যাগের পরেও যদি মনে হয় যে পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয়নি, তবে সেটি কোলন ক্যান্সারের সংকেত হতে পারে। আন্ত্রিক পথে টিউমার বা কোনো বাধার সৃষ্টি হলে বারবার শৌচাগারে যাওয়ার তাগিদ অনুভব হয়। এই অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

দ্রুত ওজন হ্রাস এবং ক্লান্তি

কোনো ডায়েট বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই যদি হঠাৎ করে শরীরের ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে, তবে তা বিপদের লক্ষণ। ক্যান্সার কোষগুলো শরীরের শক্তি শোষণ করতে শুরু করে, ফলে ওজন কমে যায়। এর পাশাপাশি শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণের ফলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিতে পারে। এর ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরেও শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা জেঁকে বসে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি ওপরের লক্ষণগুলোর মধ্যে দুই বা তিনটি আপনার শরীরে নিয়মিত দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা পেট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো কোলোনোস্কোপি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ শনাক্ত করা গেলে জীবন বাঁচানো সম্ভব।

একঝলকে

  • কোলন ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • মলের রঙের পরিবর্তন বা রক্তপাত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
  • কোনো কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া ক্যান্সারের বড় সংকেত।
  • রক্তাল্পতার কারণে সবসময় শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি বোধ হওয়া।
  • প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শে স্ক্রিনিং করানো জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *