হঠাৎ জিম ছাড়লে শরীরে যা ঘটে, জানলে আপনি চমকে উঠবেন!

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ফিট থাকার জন্য জিম যাওয়া অনেকেরই নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চা কেবল পেশিকে শক্তিশালী করে না, বরং মানসিক স্বাস্থ্যকেও সতেজ রাখে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকে হঠাৎ করেই জিম যাওয়া বন্ধ করে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ব্যায়াম হুট করে ছেড়ে দিলে শরীরের ওপর এর বেশ কিছু বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ওজন বৃদ্ধি ও চর্বি জমার ঝুঁকি
জিম ছাড়ার পর শরীরের ওপর প্রথম প্রভাব পড়ে ওজনের ক্ষেত্রে। নিয়মিত ওয়ার্কআউট করার সময় শরীরে প্রচুর ক্যালোরি খরচ হয়। ব্যায়াম বন্ধ করে দিলে সেই ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়া থেমে যায়। ফলে বাড়তি ক্যালোরি চর্বি হিসেবে শরীরে জমা হতে থাকে। বিশেষ করে পেটের মেদ বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
পেশির শক্তি ও সহনক্ষমতা হ্রাস
ব্যায়াম করার সময় শরীরের পেশিগুলো সক্রিয় এবং শক্তিশালী থাকে। জিম ছেড়ে দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেশিগুলো সংকুচিত হতে শুরু করে। এর ফলে শরীরে দুর্বলতা অনুভূত হয়। পাশাপাশি স্ট্যামিনা বা সহনক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিশ্রমেই শরীর দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠে।
মেটাবলিজম ধীর হওয়া
নিয়মিত শরীরচর্চা শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হারকে উন্নত রাখে, যা দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু জিম ছাড়ার পর মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে শরীরের গড়নের ওপর এবং দ্রুত মেদ বৃদ্ধি পায়।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি
শারীরিক ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে ‘এন্ডোরফিন’ বা আনন্দের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে উৎফুল্ল রাখে। ব্যায়াম বন্ধ করে দিলে অনেকের মধ্যেই মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং অবসাদ লক্ষ্য করা যায়। এমনকি নিয়মিত ব্যায়াম না করলে মোটিভেশনের অভাব ও আলস্য তৈরি হয়।
দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি
শরীরচর্চা বন্ধ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ ব্যায়ামের অভাব শরীরকে গ্লুকোজ ব্যবহারে বাধা দেয় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একঝলকে
- ব্যায়াম বন্ধ করলে শরীরে দ্রুত ক্যালোরি জমে ওজন বৃদ্ধি পায়।
- পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক স্ট্যামিনা কমে আসে।
- মেটাবলিজম ধীর হয়ে যাওয়ার ফলে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।
- ব্যায়ামের অভাবে মানসিক চাপ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
- রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।