হার্ট সুস্থ রাখতে শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াবে এই ৬টি খাবার

শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ভালো কোলেস্টেরল বা হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (HDL) রক্তনালীতে জমে থাকা ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) সরিয়ে লিভারে পাঠাতে সাহায্য করে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং হার্ট সচল থাকে। মূলত সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই শরীরে এই উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব।
প্রতিদিনের ডায়েটে একটি করে ডিম রাখা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী। ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি মনে হলেও এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এইচডিএল মাত্রা উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের পুষ্টিগুণ হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে।
রান্নার তেলের ক্ষেত্রে অলিভ অয়েল একটি আদর্শ বিকল্প। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ধমনীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহারে শরীরে কোলেস্টেরলের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। পাশাপাশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসির গুঁড়ো ওজনের সাথে সাথে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও অদ্বিতীয়।
হার্টের যত্নে আমন্ড, পেস্তা, ব্রাজিল নাটস বা সাধারণ চিনা বাদাম দারুণ কাজ করে। এসব বাদামে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে যা রক্তে চর্বির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের যোগান দিতে ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ রাখা জরুরি। স্যামন, টুনা বা ম্যাকেরেলের মতো মাছ শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়িয়ে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উৎস হিসেবে সোয়াবিন, টোফু বা বিনস অত্যন্ত কার্যকর। এই খাবারগুলো রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কমাতে সাহায্য করে। যারা সুস্থ হার্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে চান, তাদের জন্য এই ৬টি খাবার ডায়েটে রাখা অপরিহার্য। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এবং সঠিক খাবারের নির্বাচনই পারে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে সতেজ রাখতে।