সূর্যাস্তের পর ভুলেও করবেন না এই ৫ কাজ রুষ্ট হতে পারেন লক্ষ্মী দেবী!
January 15, 20268:09 pm

হিন্দু শাস্ত্র, পুরাণ এবং বাস্তুশাস্ত্র মতে সূর্যাস্তের সময় পরিবেশে শক্তির বড় পরিবর্তন ঘটে। বিশ্বাস করা হয় যে দিনের আলোয় ইতিবাচক শক্তির প্রভাব থাকলেও সূর্যাস্তের পর নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বেড়ে যায়। তাই গোধূলি লগ্নে কিছু কাজ এড়িয়ে চললে বাড়ির সৌভাগ্য, শান্তি এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে। বাস্তু টিপস অনুযায়ী, এই কাজগুলি সূর্যাস্তের পরে করলে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা কমে যেতে পারে এবং আর্থিক উন্নতিতে বাধা আসতে পারে।
সূর্যাস্তের পরে যে ৫টি কাজ করা অশুভ
- হলুদ বা নুন দান করা বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে সূর্যাস্তের পরে কাউকে হলুদ দেওয়া অত্যন্ত অশুভ। হলুদ বৃহস্পতি গ্রহের প্রতীক, যা সৌভাগ্য, জ্ঞান এবং ইতিবাচক শক্তির উৎস। সন্ধ্যায় হলুদ দান করলে বৃহস্পতির শুভ প্রভাব কমে যায় বলে মনে করা হয়, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি বা কর্মক্ষেত্রে বাধার কারণ হতে পারে। একই কারণে এই সময় নুন দেওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত।
- সন্ধ্যায় ঝাড়ু দেওয়া সন্ধ্যার পরে বাড়িতে ঝাড়ু দেওয়াও অশুভ বলে গণ্য করা হয়। ঝাড়ু দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সন্ধ্যায় ঝাড়ু দিলে ঘরের সম্পদ নষ্ট হয় এবং লক্ষ্মী দেবী বিরূপ হন। তাই পরিচ্ছন্নতার কাজ সূর্যাস্তের আগেই শেষ করে নেওয়া উচিত।
- দুধ, দই, চিনি বা লবণ দেওয়া বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে যে সূর্যাস্তের পরে দুধ, দই, পনির, চিনি এবং লবণ দেওয়া বা দান করা উচিত নয়। এই খাদ্যসামগ্রীগুলি চন্দ্র এবং শুক্র গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। সন্ধ্যায় এদের শক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। এই সময়ে এগুলি আদান-প্রদান করলে বাড়ির শুভশক্তির ক্ষতি হতে পারে।
- বাইরে কাপড় শুকানো কাপড় ধোয়া এবং শুকানোর ক্ষেত্রেও সূর্যাস্তের পরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মনে করা হয়, এই সময়ে পরিবেশে নেতিবাচক শক্তি বেশি ছড়ায়। ধোয়া কাপড় বাইরে রেখে দিলে সেগুলির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা বাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
- সূর্যাস্তের পর দই খাওয়া দই খাওয়ার ক্ষেত্রেও সন্ধ্যার পরে বিশেষ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দই শুক্র গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা সৌন্দর্য ও সম্পদের গ্রহ। শাস্ত্রমতে, সূর্যাস্তের পরে দই খেলে শুভ শক্তির অভাব হতে পারে, সেইসঙ্গে হজমের সমস্যা বা শরীরে শ্লেষ্মা বৃদ্ধি হতে পারে।
এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয়-বিশ্বাসভিত্তিক হলেও মানসিক শান্তি এবং ইতিবাচকতা রক্ষার জন্য অনেক পরিবার আজও এই প্রাচীন নিয়মগুলি মেনে চলেন।