অনিয়মিত ঋতুস্রাব নিয়ে চিন্তিত? পিরিয়ড স্বাভাবিক রাখতে আজই ত্যাগ করুন এই অভ্যাসগুলো

ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড প্রতিটি নারীর শরীরের একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। তবে জীবনযাত্রার মান এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ড দেরিতে হলে দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হরমোন ট্যাবলেট খাওয়া শুরু করেন, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো রোগ নয় বরং আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসই এই সমস্যার মূল কারণ।
মানসিক চাপ: পিরিয়ডের প্রধান অন্তরায়
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা স্ট্রেস পিরিয়ড বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আমাদের মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ অংশটি ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ করে। যখন আমরা অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকি, তখন শরীর থেকে ‘কর্টিসল’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণকারী ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। তাই পিরিয়ড নিয়মিত রাখতে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।
পিরিয়ড বিলম্বিত হওয়ার নেপথ্যে থাকা সাধারণ অভ্যাস
- অপর্যাপ্ত ঘুম: রাত জেগে স্মার্টফোন ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা জৈবিক ঘড়ি এলোমেলো করে দেয়। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম পিরিয়ড নিয়মিত রাখতে অপরিহার্য।
- ভুল খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে পিরিয়ড পিছিয়ে দেয়। বিশেষ করে রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।
- অতিরিক্ত ব্যায়াম: শরীর চর্চা ভালো, তবে ওজন কমাতে গিয়ে সামর্থ্যের বাইরে কঠোর ব্যায়াম করলে হরমোনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ব্যায়াম হতে হবে পরিমিত।
প্রতিকারের সহজ উপায়
জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনেই আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট ধ্যান বা মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন। ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং তাজা ফলমূল রাখুন। এছাড়া তিল ও গুড়ের মতো আয়ুর্বেদিক উপাদান পিরিয়ড নিয়মিত করতে অত্যন্ত কার্যকর।
সতর্কবার্তা
যদি এক বা দুই মাস পিরিয়ড সামান্য এদিক-ওদিক হয়, তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ঠিক করা সম্ভব। কিন্তু যদি টানা তিন মাস পিরিয়ড বন্ধ থাকে কিংবা অসহ্য পেটে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) পরামর্শ নিন।