ঠিকমতো ডায়েট করেও ওজন কমছে না? দায়ী হতে পারে কর্টিসল

ঠিকমতো ডায়েট করেও ওজন কমছে না? দায়ী হতে পারে কর্টিসল

ভাজাভুজি এড়িয়ে চলা, পরিমিত খাবার খাওয়া—সব কিছু ঠিকঠাক মেনেই চলছেন। তবুও ওজন কমছে না, বরং শরীরের কিছু অংশে মেদ আরও জমছে বলে মনে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—খাবার নিয়ন্ত্রণে রেখেও ওজন কমছে না কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে শরীরে কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত উপস্থিতি।

অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কর্টিসলকে সাধারণত ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের কারণে এই হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। যদিও কর্টিসল শরীরের জন্য পুরোপুরি ক্ষতিকর নয়—ঘুম থেকে জাগা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ভূমিকা রাখে—তবে মাত্রাতিরিক্ত হলে শরীরে চর্বি জমা শুরু হয়। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সঠিক ডায়েটের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ দৈনন্দিন জীবনের অনেক ছোট ছোট অভ্যাস ও পরিস্থিতি যে নীরবে এই হরমোন বাড়িয়ে দেয়, তা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না।

প্রিয়জন হারানোর শোক, দুর্ঘটনার খবর, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত ব্যায়াম, পারিবারিক বা সম্পর্কের টানাপড়েন, অহেতুক দুশ্চিন্তা—এসব কারণেই কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে যারা সব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ভাবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এবং খাবারের দিকে সচেতন হলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও ভালো ফ্যাটের ভারসাম্য থাকা জরুরি। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফিন ও মদ যতটা সম্ভব কমিয়ে দেওয়া উচিত।

কর্টিসল কমাতে সহায়ক খাবার—

১) ওটস, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস, ডাল, ছোলা ও বিভিন্ন বিন ফাইবারে ভরপুর। এগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে, ফলে কর্টিসল কমাতে সহায়তা করে।

২) টাটকা সবজি, ক্যাপসিকাম এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩) কর্টিসল বেড়ে গেলে পেশির ক্ষয় হতে পারে। তা রোধ করতে ডাল, ডিম, পনির ও মুরগির মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

৪) আখরোট, কাঠবাদাম, পেস্তা ও বিভিন্ন বীজে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৫) দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্টিসল দীর্ঘদিন বেশি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, মেজাজের পরিবর্তন ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। তাই ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু খাবার নয়, মানসিক প্রশান্তিও সমান জরুরি। উদ্বেগ ও কর্টিসল—এই দুটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে হজমশক্তি উন্নত হবে এবং ওজন কমানোও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *