ঘন ঘন প্রস্রাব কি কোনো বিপদের সংকেত? জানুন কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

ঘন ঘন প্রস্রাব কি কোনো বিপদের সংকেত? জানুন কখন সতর্ক হওয়া জরুরি

শীতকালে জল বেশি খেলে বা চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে বারবার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কারণ ছাড়াও যদি ঘন ঘন ওয়াশরুমে ছুটতে হয়, তবে তা শরীরের গুরুতর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে দিনে ৮ বারের বেশি অথবা রাতে বারবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে প্রস্রাবের বেগ হওয়া স্বাভাবিক নয়।

বারবার প্রস্রাব হওয়ার মূল কারণসমূহ

  • ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI): মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যায়।
  • ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর অতিরিক্ত চিনি বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, ফলে বারবার প্রস্রাব পায়।
  • প্রোস্টেটের সমস্যা: বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে গেলে মূত্রাশয়ে চাপ সৃষ্টি হয়।
  • কিডনি রোগ: কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পেলে প্রস্রাবের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আসে।
  • গর্ভাবস্থা: জরায়ুর আকার বাড়ার ফলে মূত্রাশয়ের ওপর চাপ পড়ে, যা গর্ভবতী মহিলাদের ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ হয়।

যে লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

নিচে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে একদমই দেরি করা উচিত নয়:

  • প্রস্রাবের সাথে রক্ত আসা বা রঙের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।
  • প্রস্রাবের সময় প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া বা ব্যথা হওয়া।
  • প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হওয়া (এটি প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ)।
  • শরীর ও মুখ ফুলে যাওয়া এবং সবসময় ক্লান্তি বোধ করা।
  • জ্বর বা পিঠের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা।
  • উচ্চ রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের এই পরিবর্তনগুলো কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব। তাই শরীরে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোই শ্রেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *