সতর্ক হোন: এই ৯টি সাধারণ লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের আগাম সংকেত

শরীরে বাসা বাঁধা মারণরোগ ক্যান্সারকে যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। অনেক সময় আমরা শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনকে সাধারণ মনে করে উপেক্ষা করি, যা পরবর্তীকালে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য ক্যান্সারের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো যা অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।
১. শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা বা পিণ্ড
ত্বকের নিচে কোনো নতুন পিণ্ড বা দলা অনুভব করলে সাবধান হন। বিশেষ করে স্তন, অণ্ডকোষ বা লিম্ফ নোডে কোনো পরিবর্তন দেখলে বা আগের কোনো ফোলা হঠাৎ বড় হতে শুরু করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
২. অস্বাভাবিক রক্তপাত
শরীরের যেকোনো পথ দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত বিপদের লক্ষণ। কাশির সঙ্গে রক্ত আসা ফুসফুসের ক্যান্সারের সংকেত হতে পারে। আবার মলমূত্রের সঙ্গে রক্ত বা নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্রের বাইরে যোনিপথে রক্তপাত জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হওয়া বিচিত্র নয়।
৩. হজমে সমস্যা ও গিলতে অসুবিধা
দীর্ঘদিন ধরে বদহজম বা খাবার গিলতে কষ্ট হওয়াকে সাধারণ পেটের সমস্যা ভেবে ভুল করবেন না। এটি খাদ্যনালী বা পাকস্থলীর ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে।
৪. মলত্যাগের অভ্যাসে বদল
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলের আকারে পরিবর্তন অন্ত্রের ক্যান্সারের ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা বারবার প্রস্রাবের বেগ প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
৫. নাছোড়বান্দা কাশি ও কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন
যদি কাশি সারতেই না চায় কিংবা গলার স্বর হঠাৎ কর্কশ হয়ে যায়, তবে তা ফুসফুস বা থাইরয়েড ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
৬. আঁচিলের পরিবর্তন
শরীরে থাকা কোনো পুরনো তিল বা আঁচিলের রঙ, আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ বদল আসলে সতর্ক হন। এটি ‘মেলানোমা’ বা ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
৭. হাড়ের ব্যথা ও দুর্বলতা
কোনো চোট বা পরিশ্রম ছাড়াই হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা এবং সেই সঙ্গে সারাক্ষণ ক্লান্তি বা জ্বর অনুভব করা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৮. দ্রুত ওজন হ্রাস
ব্যায়াম বা ডায়েট ছাড়াই যদি হঠাৎ করে শরীরের ওজন ৫ কেজি বা তার বেশি কমে যায়, তবে তা অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী বা ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
৯. না সারা ঘা
শরীরের কোনো ক্ষত বা ঘা যদি দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ খাওয়ার পরেও না সারে, তবে দেরি না করে বায়োপসি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।
মনে রাখবেন: এই লক্ষণগুলো মানেই ক্যান্সার নয়, তবে এগুলোকে অবহেলা করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।