শীতে সুস্থ থাকতে রোজ পাতে রাখুন পেঁপে, জেনে নিন পুষ্টিবিদের পরামর্শ

শীতের আমেজে খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম আর আলস্যের কারণে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই মনে করেন পেঁপে শীতল ফল, তাই শীতকালে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। সঠিক নিয়ম মেনে শীতের মরসুমেও পেঁপে খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
হজমের সমস্যা মেটাতে ম্যাজিক
শীতকালে শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি বা বদহজমের সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা দেয়। দিল্লির জিটিবি হাসপাতালের প্রাক্তন পুষ্টিবিদ ডাঃ অনামিকা গৌরের মতে, পেঁপেতে থাকা ‘পাপেইন’ নামক এনজাইম হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
শীতের মরসুমে সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ভয় থাকে। পেঁপে ভিটামিন সি এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণ রুখতে সাহায্য করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
শীতের দিনে আমরা সাধারণত বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাই। পেঁপেতে ক্যালোরি খুব কম এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও পরিমাণ
পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে সকালে খালি পেটে পেঁপে খাওয়া সবচেয়ে কার্যকর। দিনে ২০০ গ্রামের বেশি বা ৫-৬ টুকরোর বেশি পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।
কিছু জরুরি সতর্কতা
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় খান: ফ্রিজ থেকে বের করেই ঠান্ডা পেঁপে সরাসরি খাবেন না। খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তারপর খান।
- অসুস্থতায় সাবধান: খুব বেশি সর্দি বা কাশি থাকলে পেঁপে এড়িয়ে চলাই ভালো। একান্তই খেতে চাইলে আগে সামান্য ইষদুষ্ণ জল পান করে নিন।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা: পরিমিত পেঁপে খেলে শুধু শরীর সচল থাকে না, বরং শীতের শুষ্কতায় ত্বকের জেল্লাও বজায় থাকে।