ডিম: ডিম খেলে কি ক্যান্সার হয়? মিথ নয়, আসল ঘটনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে ডিম নিয়ে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, ডিম খেলে ক্যান্সার হতে পারে এবং এটি শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পুষ্টির ভাণ্ডার এই ডিম
ফরিদাবাদের সর্বোদয় হাসপাতালের প্রধান ডায়েটিশিয়ান ডাঃ মীনা কুমারী জানান, ডিম হলো প্রোটিনের সবচেয়ে সস্তা ও নিরাপদ উৎস। এতে রয়েছে:
- উচ্চমানের প্রোটিন: যা পেশী গঠনে অপরিহার্য।
- ভিটামিন ও খনিজ: ভিটামিন A, D, E, B12 এবং সেলেনিয়াম।
- কোলিন: যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে সাহায্য করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে ডিমের ভূমিকা অপরিসীম।
AOZ নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় AOZ (অ্যান্টিবায়োটিক নাইট্রোফুরানের অবশিষ্টাংশ) নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সে বিষয়ে ডাক্তার স্পষ্ট করেছেন যে ভারতসহ আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে পোল্ট্রি ফার্মে নাইট্রোফুরান ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে সাধারণ ডিমে এটি থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (FSSAI) জানিয়েছে, অতি সামান্য মাত্রায় এর উপস্থিতি থাকলেও তা মানবদেহে ক্যান্সার তৈরির ক্ষমতা রাখে না।
দিনে কয়টি ডিম নিরাপদ?
গবেষণা বলছে, ক্যান্সারের সাথে ডিম খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং স্থূলতা ও ধূমপানই ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী:
- সুস্থ ব্যক্তি: প্রতিদিন ১ থেকে ২টি ডিম নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।
- অসুস্থ ব্যক্তি: হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত।
- সুস্থতায় ডিম: এমনকি ক্যান্সার আক্রান্ত বা আইসিইউ-তে থাকা রোগীদের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম দেওয়া হয়।