আপনি কি জানেন কেন মহিলাদের শরীর পুরুষদের তুলনায় ঠান্ডা থাকে? এর পেছনের কারণ

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, একই ঘরে এসি চললে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা বেশি শীত অনুভব করেন? সাধারণ কোনো বিষয় নয়, এর পেছনে রয়েছে শরীরের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞানের এক গভীর রহস্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরের আবহাওয়া নয়, বরং শরীরের গঠন এবং বিপাক প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করে আমাদের শীত বা গরম লাগার অনুভূতি।
বিপাক প্রক্রিয়া ও শরীরের ইঞ্জিন
আমাদের শরীরে তাপ উৎপন্ন করার প্রধান ইঞ্জিন হলো মেটাবলিজম বা বিপাক। যাদের বিপাকীয় হার দ্রুত, তাদের শরীরে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। বিপরীতে, বিপাকীয় হার ধীর হলে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। সাধারণত পুরুষদের বিপাকীয় হার মহিলাদের তুলনায় বেশি থাকে, যা তাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা উষ্ণ রাখে।
পেশী বনাম মেদ: লড়াইটা যেখানে
শরীরের গঠনও শীত সহ্য করার ক্ষমতায় বড় ভূমিকা রাখে। পেশী বা মাসল বেশি থাকলে শরীর বেশি তাপ উৎপন্ন করতে পারে। পুরুষদের শরীরে পেশীর পরিমাণ বেশি থাকে, যা তাদের জন্য ইনবিল্ট হিটারের কাজ করে। অন্যদিকে, মহিলাদের শরীরে ফ্যাটের শতাংশ বেশি থাকলেও পেশীর হার কম হওয়ায় তারা দ্রুত ঠান্ডা অনুভব করেন।
রক্ত সঞ্চালন ও হিমোগ্লোবিন
রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকলে শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকা বা অ্যানিমিয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। হিমোগ্লোবিন কম থাকলে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে শরীরে তাপ পরিবহনের ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে হাত-পা দ্রুত ঠান্ডা হয়ে আসে।
জীবনযাত্রার প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমতে থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত জল পান না করা বা অত্যধিক চা-কফি পানের ফলেও শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে।
সমাধান কী?
যদি আপনি অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত শীত অনুভব করেন, তবে আপনার ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এটি বিপাকীয় হার বাড়াতে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।