সাধারন জীবনযাপনেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমতে পারে- ১ঝলক

সাধারন জীবনযাপনেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমতে পারে- ১ঝলক

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগাম সতর্কতা না থাকায় ধীরে ধীরে বিকশিত হওয়ায় অনেক সময় রোগীরা বুঝতেই পারেন না যে তাদের শরীরে নীরবে ক্ষতি হচ্ছে।চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করার পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ধমনীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত রক্তের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে যখন বেশি থাকে, তখনই হাইপারটেনশন দেখা দেয়। এতে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয়। রক্তচাপ ১৩০/৮০ মি.মি. পারদ বা তার বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। আর ১৮০/১২০ মি.মি. পারদের বেশি হলে তা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সম্প্রতি একজন শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিজ্ঞানভিত্তিক কিছু সহজ জীবনধারার পরামর্শ শেয়ার করেছেন।

নিয়মিত শরীরচর্চা ওষুধের মতোই কার্যকর

বিশেষজ্ঞের মতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, পছন্দের যেকোনো ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে ওয়াল সিট বা প্ল্যাঙ্কের মতো আইসোমেট্রিক ব্যায়াম রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কার্যকর। তার ভাষায়, ব্যায়ামের আধিক্যের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদযন্ত্রবান্ধব খাদ্যাভ্যাস

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা বলেন, লবণ কম খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এসব খাবার উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ।

এর পরিবর্তে তিনি ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেন। ভূমধ্যসাগরীয় (মেডিটেরেনিয়ান) ও ড্যাশ (DASH) ডায়েটকে তিনি হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী খাদ্যতালিকা হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে লবণ কম এবং আঁশ বেশি থাকে।

মায়ো ক্লিনিক জানায়, উদ্ভিদভিত্তিক ও সম্পূর্ণ খাবারনির্ভর খাদ্যাভ্যাস প্রাকৃতিকভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন বিলম্বিত বা কমিয়ে দিতে পারে।

ঘুম, মানসিক চাপ ও নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি

ডাক্তাররা ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম এবং ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা মাইন্ডফুলনেস চর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করাও অত্যন্ত জরুরি। মায়ো ক্লিনিকের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সের পর অন্তত দুই বছর অন্তর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের বা যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের বছরে একবার পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন উপসর্গহীন থাকতে পারে, তাই নিয়মিত পরীক্ষা আগাম শনাক্তকরণের একমাত্র উপায়।

চিকিৎসকরা এখন চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ছোট কিন্তু নিয়মিত জীবনধারার পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে হৃদস্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *