সরস্বতী পুজোর অঞ্জলির আগে কেন কুল খেতে নেই, জানুন এই পৌরাণিক রহস্য

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে সরস্বতী পুজোর আগে কুল না খাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে মহর্ষি ব্যাসদেবের এক কঠোর তপস্যার ইতিহাস। ব্যাসদেব যখন ব্রহ্মসূত্র রচনার সংকল্প করেন তখন দেবী সরস্বতী তাকে একটি বিশেষ শর্ত দিয়েছিলেন। দেবী জানান যেদিন একটি কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিনই তিনি তুষ্ট হবেন। দীর্ঘ তপস্যার পর শ্রীপঞ্চমীর তিথিতে একটি পাকা কুল ব্যাসদেবের মস্তকে পতিত হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে দেবী আশীর্বাদ করেছেন। সেই বিশেষ দিনেই তিনি দেবীকে কুল নিবেদন করে তার অমর সৃষ্টি ব্রহ্মসূত্র রচনা শুরু করেছিলেন।
দেবী সরস্বতীর সন্তুষ্টির সেই পবিত্র মুহূর্তকে স্মরণ করেই শ্রীপঞ্চমী বা সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী কুল দেবীর প্রিয় ফল এবং পুজোর সময় অঞ্জলি দেওয়ার আগে তা ভক্ষণ করা শাস্ত্রীয় রীতির পরিপন্থী। যুগ যুগ ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস ও নিয়মকে সম্মান জানিয়েই বাঙালি সংস্কৃতিতে সরস্বতী পুজোর দিন দেবীকে কুল অর্পণ করার পরই তা প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার রীতি আজও অমলিন।