বার্ধক্য কি রুখে দেবে উপবাস? গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বয়স বেড়ে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যা থামানো আসাম্ভব, তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন এর গতি কমিয়ে দেওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের মধ্যেই।
চেহারায় বলিরেখা রোধ করতে বা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সজীব রাখতে কেবল দামী ক্রিমের ব্যবহার যথেষ্ট নয়। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ‘উপవాস’ (Fasting) কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি বার্ধক্য রোধের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সঠিক পদ্ধতিতে উপবাস করলে আমাদের শরীরের কোষগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। আসুন জেনে নিই উপবাসের বৈজ্ঞানিক কিছু দিক।
শরীরের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা অভিযান: অটোফ্যাজি
আমরা যখন দীর্ঘ সময় খাবার গ্রহণ করি না, তখন শরীরে ‘অটোফ্যাজি’ (Autophagy) নামক এক বিস্ময়কর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সহজ কথায়, এটি কোষের ভেতর জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করার একটি পদ্ধতি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কোষে যে সমস্ত অকেজো প্রোটিন এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু জমে যায়, শরীর নিজেই সেগুলোকে রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করতে শুরু করে। উপবাসের ফলে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের প্রদাহ কমে। এতে ত্বক উজ্জ্বল হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং বার্ধক্যের লক্ষণগুলো দেরিতে প্রকাশ পায়।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং: আধুনিক জীবনযাত্রার আশীর্বাদ
আগেকার দিনে আমাদের পূর্বপুরুষরা সপ্তাহে একদিন উপবাস করতেন, যার পেছনে ছিল গভীর বিজ্ঞান। বর্তমানে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা দিনের ১৬ ঘণ্টা না খেয়ে থেকে বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাবার গ্রহণ করার পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কেবল ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, বরং ডিএনএ (DNA) ড্যামেজ রোধ করে আয়ু বৃদ্ধি করে। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং শরীর থাকে সজীব ও প্রাণবন্ত।
বয়সের ঘড়িকে উল্টো দিকে ঘোরানো না গেলেও, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল উপবাসের মাধ্যমে বার্ধক্যকে ধীর করে দেওয়া অবশ্যই আমাদের হাতে রয়েছে। তারুণ্য বজায় রাখা মানে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং অভ্যন্তরীণ কোষগুলোকে শক্তিশালী রাখা।
সতর্কতা: যেকোনো নতুন ডায়েট বা উপবাসের পদ্ধতি শুরু করার আগে আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।