দুধ কি সত্যিই শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে? জানুন বিশেষজ্ঞের মতামত

শৈশব থেকেই আমাদের দুধ পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি শরীরের বৃদ্ধি এবং মজবুত গঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বর্তমান জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাঝেও দুধকে পুষ্টির একটি সহজ উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষ করে যখন হাড় এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের কথা ওঠে, তখন প্রথমেই দুধের নাম আসে। বর্তমানে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিজনিত সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ নিজেদের ডায়েট নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করাই কি যথেষ্ট?
পুষ্টির ভাণ্ডার দুধ
দুধ স্বাস্থ্যর জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং পুষ্টিকর পানীয়। এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন D, ভিটামিন B12, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। নিয়মিত দুধ পান করলে হাড় ও দাঁত মজবুত হয়, কারণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শিশুদের সঠিক বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং বৃদ্ধ বয়সে অস্টিওপরোসিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়। দুধে থাকা প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে শরীরকে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম রাখে।
হজম ও মানসিক স্বাস্থ্য
দুধ পরিপাকতন্ত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। দুধে থাকা ল্যাকটোজ ও প্রোটিন হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায় এবং অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যায় আরাম দেয়। রাতে গরম দুধ পান করলে মন শান্ত হয় এবং ঘুমের মান উন্নত হয়, কারণ এতে ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা মানসিক চাপ কমায়। এছাড়া ভিটামিন B12 মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে।
কোন দুধ কার জন্য?
দুধ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে, তবে তা সঠিক নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে। শিশুদের জন্য ফুল ক্রিম দুধ উপকারী হলেও ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা ওজনজনিত সমস্যা থাকলে লো-ফ্যাট বা টোনড মিল্ক বেছে নেওয়া উচিত। মোষের দুধ ঘন ও চর্বিযুক্ত হওয়ায় যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন তাদের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে, যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুধে অ্যালার্জি আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে সয়া মিল্ক, আমন্ড মিল্ক বা ওটস মিল্ক পান করতে পারেন।
দুধ কি একাই ক্যালসিয়ামের অভাব মেটাতে পারে?
অনেকেই মনে করেন শুধু দুধ খেলেই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ হয়, তবে বিষয়টি একটু জটিল। এক গ্লাস দুধ থেকে শরীর ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়াম পায় যা সহজেই শোষিত হয়। কিন্তু প্রত্যেকের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন এক নয়; এটি বয়স, লিঙ্গ ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। যদি শরীরে ক্যালসিয়ামের চরম ঘাটতি থাকে, তবে শুধু দুধ পান করা যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে ডায়েটে দই, পনির, সবুজ শাকসবজি, তিল এবং বাদাম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। অর্থাৎ, দুধ ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করলেও সুষম খাবার ছাড়া সম্পূর্ণ অভাব দূর করা কঠিন।
দিনে কতটা দুধ পান করবেন?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ২ গ্লাস (৪০০-৫০০ মিলি) দুধ যথেষ্ট। শিশু, কিশোর এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত দুধ পান করাও সব সময় উপকারী নয়; ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
কিছু জরুরি পরামর্শ
- দুধের পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন D-এর মাত্রা ঠিক রাখা প্রয়োজন।
- প্রতিদিন কিছু সময় রোদে কাটান।
- শুধুমাত্র দুধ নয়, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখুন।
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food) এবং সোডা জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন।