শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবেন কীভাবে? এই ৫টি উপায়ে আপনার সন্তানও মঞ্চে কথা বলবে নির্ভয়ে

প্যারেন্টিং টিপস: একজন মানুষের মধ্যে যদি আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে, তবে তিনি প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন না। এমন অনেক সুযোগ বা ক্ষেত্র রয়েছে যা কম অভিজ্ঞতা বা গুণসম্পন্ন ব্যক্তিরা কেবল তাদের আত্মবিশ্বাসের (Confidence) জোরে অর্জন করে নেন।
আত্মবিশ্বাস এমন কোনো বিষয় নয় যা রাতারাতি তৈরি হয়। তাই বলা হয়, ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো যায়, তবে সে জীবনে অনেক এগিয়ে যেতে পারে। আপনার সন্তান যদি আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করে এবং আপনি যদি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তবে নিচের সাধারণ বিষয়গুলো খেয়াল রেখে আপনি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারেন। এই টিপসগুলো আপনার খুব কাজে আসবে।
শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায়
প্রশংসা করুন
শিশু যদি কোনো কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করে, তবে অবশ্যই তার প্রশংসা করুন। প্রশংসা করলে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগে। তবে তাকে এটিও বোঝান যে হার-জিৎ বড় কথা নয়, বরং তার প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুদের মন থেকে ব্যর্থতার ভয় দূর হয় এবং তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
শিশুকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন
শিশুকে সারাক্ষণ বলে দেবেন না যে তাকে কী করতে হবে আর কী নয়। তাকে ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে দিন— যেমন সে কী পোশাক পরবে, প্রাতঃরাশে কী খাবে বা নিজের পছন্দের কোন জিনিসটি কিনবে ইত্যাদি। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
নতুন দক্ষতা শেখান
শিশুরা যখন নতুন কোনো দক্ষতা (Skills) শেখে, তখন তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। তারা নিজেদের ভিড় থেকে আলাদা বলে অনুভব করতে পারে। নিজের স্কুলব্যাগ গোছানো থেকে শুরু করে জুতো পরা বা খাবার প্লেট সাজানোর মতো কাজগুলো শিশুদের শেখান এবং তাদের দিয়ে করান।
কথা বলার সুযোগ দিন
যেসব শিশুকে বাড়িতে অতিরিক্ত বাধা-নিষেধের মধ্যে রাখা হয়, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যায়। তারা অন্যের সামনে কথা বলতে লজ্জা বা দ্বিধাবোধ করে। তাই শিশুদের মন খুলে কথা বলতে দিন। শিশু যখন আপনার সামনে কিছু বলে, তখন মন দিয়ে তা শুনুন। যদি সে ভুল কিছু বলে, তবে আদরের সঙ্গে তা সংশোধন করে দিন। এতে অন্যের সামনে কথা বলার সাহস বাড়বে।
সারাক্ষণ বকাঝকা করবেন না
শিশুর ভুল সংশোধন করে দেওয়া জরুরি, কিন্তু তাকে সারাক্ষণ বকাঝকা করবেন না। এতে শিশুর আত্মসম্মান (Self Esteem) ক্ষুণ্ণ হয় এবং সে সবসময় ভীত ও জড়সড় হয়ে থাকে। শিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন। দেখবেন, খুব শীঘ্রই তার আচরণ এবং আত্মবিশ্বাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।