কিডনির সমস্যায় অজান্তেই কি শরীরে এসব ব্যথা হচ্ছে? লক্ষণ চিনুন নয়তো বিপদ!

কিডনির সমস্যায় অজান্তেই কি শরীরে এসব ব্যথা হচ্ছে? লক্ষণ চিনুন নয়তো বিপদ!

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিঃশব্দ ঘাতক। কারণ, কিডনি বিকল হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা ব্যথা ধরা পড়ে না। তবে এমন কিছু ব্যথা আছে যা আমরা অবহেলা করি, কিন্তু সেগুলো হতে পারে কিডনি রোগের বড় সংকেত।

কেন একে সাইলেন্ট কিলার বলা হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ হলো কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ। অনেক সময় শরীরের ভেতরে সমস্যা দানা বাঁধলেও বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। বিশেষ করে কিডনি স্টোন, ইনফেকশন বা টিউমার না হওয়া পর্যন্ত অনেক রোগীই ব্যথা অনুভব করেন না।

ব্যথা যেখানে বিপদ সংকেত দিতে পারে

কিডনির ব্যথা সবসময় যে পিঠেই হবে এমনটা নয়। চিকিৎসার ভাষায় একে ‘রিফার্ড পেইন’ বলা হয়। জেনে নিন শরীরের কোথায় কোথায় ব্যথা হতে পারে:

  • পিঠ ও কোমরের নিচের অংশ: পিঠের নিচের দিকে গভীর ব্যথা অনুভব করা কিডনি ইনফেকশন বা পাথরের লক্ষণ হতে পারে। সাধারণ পেশির ব্যথার সাথে একে গুলিয়ে ফেললে বিপদ।
  • তলপেট ও কুঁচকি: কিডনি থেকে মূত্রনালিতে পাথর নামার সময় প্রচণ্ড ব্যথা পিঠ থেকে শুরু হয়ে তলপেট, উরু বা যৌনাঙ্গের আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • বুকে ব্যথা: কিডনি বিকল হওয়ার চরম পর্যায়ে শরীরে জল জমতে শুরু করে। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের চারপাশে প্রদাহ হয়ে বুকে ব্যথা হতে পারে।
  • পায়ে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ে ব্যথা বা ফুলে যাওয়া কিডনি ড্যামেজের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

এই লক্ষণগুলো দেখলেই সাবধান

শুধুমাত্র ব্যথা নয়, যদি ব্যথার সাথে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা রঙের পরিবর্তন।
  • জ্বর ও বারবার কাঁপনি।
  • শরীরে অস্বাভাবিক ফোলাভাব।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যাদের সুগার বা প্রেশার আছে, তারা সুস্থ বোধ করলেও নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করান। ব্যথার জন্য অপেক্ষা না করে সময়ের আগে রোগ শনাক্ত করাই কিডনি বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *