সর্দি-কাশিতে মহর্ষি অগস্ত্যের ম্যাজিক দাওয়াই! ১৫ মিনিটেই মিলবে মুক্তি

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি বা সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা বিশ্বের অন্যতম বিরক্তিকর সমস্যা। নাক দিয়ে জল পড়া, অসহ্য মাথাব্যথা আর নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। আধুনিক অনেক ওষুধ ব্যবহার করেও অনেক সময় তাৎক্ষণিক আরাম পাওয়া যায় না। তবে প্রাচীন ভারতীয় সিদ্ধ চিকিৎসায় মহর্ষি অগস্ত্য সর্দি নিরাময়ের অত্যন্ত কার্যকরী এবং প্রাকৃতিক কিছু উপায় বর্ণনা করেছেন, যা আজও বিস্ময়করভাবে কাজ করে।
গোলমরিচের কামাল: ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি
সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণ বা সাইনাসে জল জমার কারণে সর্দি হয়। সর্দি পুরোপুরি জেঁকে বসার আগে অনেকের গলায় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। মহর্ষি অগস্ত্যের মতে, ঠিক এই সময়েই ব্যবস্থা নিলে রোগ দ্রুত সারে।
- পদ্ধতি: সর্দির শুরুতেই ১৩টি গোলমরিচ নিয়ে ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে নিন।
- ফলাফল: ডাস্ট অ্যালার্জি বা ধুলোবালির কারণে হওয়া সর্দি গোলমরিচ খাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
হলুদ ও চুনের বিশেষ প্রলেপ: প্রাচীন গোপন টোটকা
মাথায় জল জমা বা দীর্ঘস্থায়ী সর্দির জন্য অগস্ত্য মুনি তাঁর গ্রন্থে একটি সংকেত ব্যবহার করেছেন— ‘অগ্নিশিখা ও শ্বেতবর্ণের মিশ্রণে তৈরি হবে রক্তবর্ণ, যা প্রলেপ দিলেই মিলবে আরোগ্য’। এখানে ‘অগ্নিশিখা’ বলতে হলুদ এবং ‘শ্বেতবর্ণ’ বলতে চুনকে বোঝানো হয়েছে। এই দুইয়ের মিশ্রণে লাল রঙ তৈরি হয় যা অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
১. এক চা চামচ হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য (এক চিমটি বা ১/৪ চামচ) চুন এবং সামান্য জল মিশিয়ে একটি পেস্ট বা ঘন প্রলেপ তৈরি করুন।
২. এই মিশ্রণটি কপাল এবং নাকের ওপর ভালো করে লাগিয়ে নিন।
৩. হলুদের অ্যান্টি-সেপটিক গুণের কারণে চুন চামড়ার কোনো ক্ষতি বা ক্ষত তৈরি করে না, তাই এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
কার্যকারিতা:
এই প্রলেপটি লাগানোর পর রোগী সাধারণত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। ঘণ্টাখানেক ঘুমের পর ঘুম থেকে উঠলে দেখা যায় সর্দির অস্বস্তি ও মাথাব্যথা ম্যাজিকের মতো গায়েব হয়ে গেছে। এই পদ্ধতিটি শিশুদের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর এবং নিরাপদ।
সর্দির কবলে পড়ে বারবার অ্যান্টি-বায়োটিক বা ইনহেলার ব্যবহার না করে, প্রাচীন ভারতের এই পরীক্ষিত ও প্রাকৃতিক ঘরোয়া প্রতিকারগুলো আপনিও ট্রাই করে দেখতে পারেন।