ধনী হতে চান? বছরের শুরুতেই অল্প আয় থেকে টাকা জমানোর ৬ উপায়

ধনী হতে চান? বছরের শুরুতেই অল্প আয় থেকে টাকা জমানোর ৬ উপায়

নতুন বছর শুরু হয়েছে। বছরের শুরুতেই বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় আমাদের। নানা পরিকল্পনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অল্প আয় থেকে খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করা। কারণ, ভবিষ্যতে বা জরুরি সময় যেন তাৎক্ষণিক তা পাওয়া যায়। কিন্তু এ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা থাকলেও অল্প আয় থেকে খরচ কমানো যেমন প্রায় আসাম্ভব হয়, একইভাবে সঞ্চয় করাও হয়ে পড়ে কঠিন।

এরপরও স্বল্প আয় থেকেই অল্প অল্প কিছু টাকা সঞ্চয়ের অভ্যাস করা উচিত। আর সেই টাকা সঠিক সময় সঠিক খাতে বিনিয়োগ করে অর্থকে বাড়ানো হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। বছরের শুরুতে অল্প আয় থেকে খরচ কমিয়ে কীভাবে সঞ্চয় করবেন, এ ব্যাপারে ফাইডলিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নেয়া যাক।

এমন অ্যাকাউন্টে টাকা রাখা, যেখানে মুনাফা বেশি:
টাকা সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সবসময় নিরাপদ এমন একটি অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করতে হবে, যেখান থেকে আপনাকে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রদান করা হবে। হতে পারে তা উচ্চ মুনাফার সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট, ব্রোকারেজ অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে সঞ্চয় করতে পারেন। টাকা কোনো অ্যাকাউন্টে না রাখলে তা নানা কারণে খরচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে সেই অর্থ যদি কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয়, তাহলে সেখান থেকে মুনাফা যোগ হবে সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে।

টাকাকে গুরুত্ব দেয়া:
বিনিয়োগ করলেই তা রাতারাতি বৃদ্ধি পাবে, এমনটা আশা করা উচিত নয়। আপনি দিনে দিনে কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যমে এর বৃদ্ধি লক্ষ্য করবেন না। এ ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদী লাভের অভাব নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে আপনাকে। বিপরীতে যদি দীর্ঘমেয়াদী চক্রবৃদ্ধি মাধ্যমগুলোয় অর্থ রাখেন, তাহলে ফলাফল চোখে পড়বে। অর্থ থেকে অর্থ উপার্জন সম্ভব হবে। এ জন্য টাকাকে কখন গুরুত্ব দিতে হবে, তা আপনাকেই হিসাব করে নিতে হবে। কখন কোন মাধ্যমে বিনিয়োগ করবেন, কী পরিমাণ মুনাফা পাবেন, সেটি বিশেষভাবে মাথায় রাখুন।

অস্থিরতায় নতি স্বীকার না করা:
কোথাও বিনিয়োগ করার পর বাজার যদি বেশি থাকে, তখন আপনার পোর্টফোলিও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। বাজার নেমে গেলে আবার সেটি নেমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অর্থ তুলে নেয়ার প্রলোভন কাজ করতে পারে আপনার মধ্যে। কিন্তু এ অবস্থায় বের হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ, এ অবস্থায় খুব তাড়াতাড়ি বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।

ইচ্ছাকৃতভাবে বিনিয়োগের জন্য অর্থ আলাদা রাখা:

উদ্দেশ্যমূলকভাবে অর্থ সঞ্চয় না করলে বিনিয়োগের জন্য কম অর্থ থাকবে এবং তা বৃদ্ধিও কম পাবে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে পারেন। পরিকল্পনায় বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ, হাতে টাকা না থাকলে তখন খরচ করার প্রবণতাও কম থাকে। এ জন্য স্বল্প আয় থেকেই অল্প অল্প কিছু সঞ্চয় করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় সঞ্চয় চালুর পরিকল্পনা করুন। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার নির্দিষ্ট পরিমাণ একটি অর্থ সঞ্চয় হতে থাকবে।

নতুন চাকরির অফারের আগে কমপ্যাক্ট প্যাকেজ দেখা:

কর্মজীবনে বারবার চাকরির প্রস্তাব আসবে, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে শুধু মোটা বেতন, পদবি ও দায়িত্বগুলো যদি আপনাকে আকর্ষণ করে, তাহলে অবশ্যই নতুন প্রস্তাবন মূল্যায়নের আগে মোট ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ বিবেচনা করুন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য এবং অক্ষমতা বিমা খরচে কো ম্পা নি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কী, নিয়োগকর্তার অবসর পরিকল্পনা কেমন, টিউশন সহায়তা, স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে সহায়তা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিনা। এসব যদি প্রস্তাবনায় থাকে, তাহলে স্বল্প বেতনেরর চাকরি করেও অর্থ সঞ্চয় করা সহজ হয়।

চাকরির ছাড়ার আগে হিসাব করা:
কিছু কো ম্পা নি বা প্রতিষ্ঠান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বাধ্য করে বা নির্দিষ্ট সময় পর বের করে দেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্মীর ক্ষতিপূরণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে অবসর পরিকল্পনা বা স্টক অপশনে থাকে। এসব জেনে চাকরিতে যোগ দেয়া উচিত এবং সেই অনুযায়ী চাকরি ছাড়ার কথা ভাবতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *