হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার ৪টি সহজ উপায়- ১ঝলক

হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার ৪টি সহজ উপায়- ১ঝলক

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শরীরে নানা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, ঘুমের অসুবিধা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ত্বকের সমস্যা এর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে পিসিওডি বা পিসিওএসে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। সম্প্রতি পিসিওডি ও গাট হেলথ বিশেষজ্ঞ ডা. রানি রোশনি নারীদের জন্য কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী হরমোন নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন।

১. ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ

পিসিওডিতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সাধারণ। এর ফলে অতিরিক্ত ক্ষুধা ও শরীরে চর্বি জমা হয়। হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন এইভাবে:

-খাবারের আগে গরম জলর সঙ্গে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার পান করুন।

-খাবারের ১০ মিনিট পর হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।

-প্রতিদিনের খাবারে সবজি, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখুন।

-সপ্তাহে তিন দিন স্ট্রেংথ ট্রেনিং করুন (স্কোয়াট, পুশআপ বা হালকা ওয়েট ট্রেনিং)।

-লক্ষ্য রাখবেন, চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

২. কর্টিসল কমানো

-কর্টিসল হরমোনের বেশি মাত্রা মানসিক চাপ এবং পেটের চর্বি বাড়াতে পারে।

-বক্স ব্রিদিং: ৪ সেকেন্ড শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৪ সেকেন্ডে ছাড়ুন, দিনে ২ মিনিট করুন।

-সকালে ৫ মিনিট রোদে দাঁড়ানো এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন।

-মেডিটেশন বা জার্নালিং করুন।

-প্রসেসড স্ন্যাকসের পরিবর্তে বাদাম ও বীজ খান।

৩. মেলাটোনিন নিয়ন্ত্রণ

-পিসিওডিতে ঘুমের সমস্যা সাধারণ, যা মেলাটোনিনের অভাবের কারণে হয়।

-ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ফোন বা স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করুন।

-গরম হলুদ দুধ বা ক্যামোমাইল চা পান করতে পারেন।

-ঘুমানোর সময় আলো নিভিয়ে এবং ফোন দূরে রাখুন।

-নিয়মিত এই অভ্যাস মেনে চললে ঘুমের মান ধীরে ধীরে উন্নত হবে।

৪. ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নিয়ন্ত্রণ

-এই হরমোনের ভারসাম্যহীনতা অনিয়মিত মাসিক, মুখে লোম, মুড সুইং এবং কম এনার্জি তৈরি করে।

-প্রতিদিন দই বা স্মুদিতে ১ টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্সসিড মেশান।

-দৈনন্দিন জল (২–৩ লিটার) পান করার সময় এক চিমটি পিঙ্ক সল্ট মেশান।

-দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্যের জন্য সিড সাইক্লিং পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

-প্রথম ১৪ দিন: ফ্ল্যাক্সসিড + কুমড়ার বীজ

-পরবর্তী ১৪ দিন: সূর্যমুখী বীজ + তিল

-প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে স্টিল বা ধাতব বোতল ব্যবহার করুন।

হরমোন নিয়ন্ত্রণের এই চারটি পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করলে পিসিওডি আক্রান্ত নারীরা শরীর ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।

সূত্র: NDTV

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *