ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস জল কেন এত জরুরি জানুন- ১ঝলক

ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি কেন এত জরুরি জানুন- ১ঝলক

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হয় এক গ্লাস জল। সারারাত ঘুমের সময় খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শরীরের ভেতরের নানা প্রক্রিয়া—শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য নির্গমন—চলতেই থাকে। ফলে ভোরের দিকে শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা জলশূন্য হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় সকালে উঠেই জল খাওয়া শরীরকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনে।

পুষ্টিবিদদের মতে, টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীরে তরলের ঘাটতি তৈরি হয়। ঘুম ভাঙার পরপরই জল পান করলে শরীরের তরল ভারসাম্য ঠিক হয়, মাথার ঝিমুনি কমে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রেও স্কুলে যাওয়ার আগে জল খেলে মনোসংযোগ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঘুমের সময় শরীরে খাবার ঢোকে না, কিন্তু শরীরের কার্যক্রম থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্ত চলাচল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য বের করার জন্য শরীর থেকে নিয়মিত জল বেরিয়ে যায়। তাই সকালে জল না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা কিংবা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।

সকালে জল পান করার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা রয়েছে। এটি রাতের জলশূন্যতা দূর করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। জল খেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, হজম প্রক্রিয়া ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে।

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে জল পান করার পরবর্তী এক ঘণ্টায় বিপাকের হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শরীরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, ফলে কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কম পড়ে।

এই অভ্যাস মন ও শরীর—দুটোকেই সতেজ করে তোলে। ঝিমুনি কেটে যায়, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা হয় আরও সক্রিয়। নিয়মিত সকালে জল পান করলে অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। নাশতার আগে জল খেলে অন্ত্র খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণও ভালোভাবে হয়।

পরিমাণের দিক থেকে সকালে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস জল পান করাই যথেষ্ট। খুব ঠান্ডা বা খুব গরম জল না খেয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা কুসুম গরম জল শরীরের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। প্রতিদিনের এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *