গ্যাস সংকটে রান্নাঘরে কোন চুলা ব্যবহার করবেন? ইনডাকশন নাকি ইনফ্রারেড?

গ্যাস সংকটে রান্নাঘরে কোন চুলা ব্যবহার করবেন? ইনডাকশন নাকি ইনফ্রারেড?

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট বাড়ায় শহরের রান্নাঘরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইলেকট্রিক চুলা। প্রধানত দুটি ধরণ—ইনডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা—ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও চেহারায় মিল রয়েছে, বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক দিক থেকে এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়া:

ইনডাকশন চুলা: তড়িৎ-চৌম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে সরাসরি পাত্রকে উত্তপ্ত করে, চুলার গ্লাস টপ গরম হয় না।

ইনফ্রারেড চুলা: অবলোহিত বিকিরণের মাধ্যমে তাপ পাত্রে পৌঁছে দেয়; চুলার গ্লাস নিজেও গরম হয়।

পাত্র ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা:

-ইনডাকশন চুলায় কেবল লোহা বা ফেরোম্যাগনেটিক স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা যায়।

-ইনফ্রারেড চুলায় অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, তামা বা মাটির পাত্রও ব্যবহার করা যায়।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়:

-ইনডাকশন চুলার কার্যকারিতা প্রায় ৯০%, কম অপচয়।

-ইনফ্রারেড চুলার কার্যকারিতা প্রায় ৭০%, কিছু তাপ অপচয় হয়।

নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সুবিধা:

-রান্না শেষে ইনডাকশন চুলা দ্রুত ঠান্ডা হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম।

-ইনফ্রারেড চুলা কিছুক্ষণ গরম থাকে; তবে সরাসরি রুটি সেঁকানো বা ঝলসানো যায়।

গ্যাস সংকটে প্রাসঙ্গিকতা:

-বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নিরাপত্তার জন্য ইনডাকশন চুলা উত্তম।

-সব ধরনের পাত্র ব্যবহার বা রান্নার স্বাধীনতা চাইলে ইনফ্রারেড চুলা কার্যকর।

-সঠিক পাত্র নির্বাচন ও সচেতন ব্যবহারে ইলেকট্রিক চুলা গ্যাস সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব রান্নার পথ দেখাতে পারে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *