ইনজেকশন ছাড়াই ফিরবে ত্বকের হারানো জেল্লা গ্লুটাথিয়নের জাদুতে

ইনজেকশন ছাড়াই ফিরবে ত্বকের হারানো জেল্লা গ্লুটাথিয়নের জাদুতে

গত বছর অভিনেত্রী শেফালি জরিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল বিনোদন জগতকে। সেই সময় বারবার আলোচনায় উঠে এসেছিল অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্ট এবং ‘গ্লুটাথিয়ন’ নামক একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের নাম। অনেকেই মনে করেন, গ্লুটাথিয়ন মানেই বোধহয় দামী ইনজেকশন বা সাপ্লিমেন্ট। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, কৃত্রিম উপায়ে গ্লুটাথিয়ন শরীরে প্রবেশ করানোর চেয়ে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে এর মাত্রা বাড়ানো অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকরী।

গ্লুটাথিয়ন আসলে কী এবং কেন এটি প্রয়োজনীয়

গ্লুটাথিয়ন হলো শরীরের অন্যতম শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি আমাদের শরীরের কোষগুলোকে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বা দূষণজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। লিভার ডিটক্সিফিকেশন বা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এছাড়া ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং বয়সের ছাপ রুখতে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে। দামী ট্রিটমেন্টের ঝুঁকি না নিয়ে প্রতিদিনের ডায়েটে কিছু বিশেষ খাবার রাখলেই আপনি পেতে পারেন প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ত্বক।

কোন খাবারে লুকিয়ে আছে গ্লুটাথিয়নের উৎস

১. কপিজাতীয় সব্জি ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং ব্রাসেল স্পাউট গ্লুটাথিয়ন তৈরিতে বিশেষ সহায়ক। এই সব্জিগুলোতে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা শরীরে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়াতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত এই সব্জি খেলে ত্বকের কালচে ছোপ দূর হয়।

২. অ্যালিয়াম প্রজাতির সব্জি রসুন এবং পেঁয়াজ কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, এটি গ্লুটাথিয়ন সিন্থেসিসের জন্য অপরিহার্য। রসুনের অ্যালিসিন উপাদান লিভারকে সচল রাখে এবং শরীরে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটাথিয়ন তৈরি হতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে ত্বকের জেল্লা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়।

৩. ফল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যাভোকাডো, তরমুজ এবং স্ট্রবেরিকে গ্লুটাথিয়নের পাওয়ার হাউজ বলা হয়। অ্যাভোকাডোর হেলদি ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, অন্যদিকে তরমুজের লাইকোপেন এবং স্ট্রবেরির ভিটামিন-সি গ্লুটাথিয়নের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৪. বাদাম ও বীজ পেস্তা, আখরোট এবং ফ্ল্যাক্স সিডস বা তিসি বীজে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদানটি শরীরে গ্লুটাথিয়ন সংশ্লেষণে সরাসরি অংশ নেয়। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং বলিরেখা কমে।

৫. ডাল ও দানাশস্য রাজমা, ওটস, কিনোয়া বা ব্রাউন রাইসের মতো দানাশস্যে থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আপনার ত্বকের ওপর।

সতর্কতা

গ্লুটাথিয়ন সাপ্লিমেন্ট বা ইনজেকশন নেওয়ার আগে সর্বদা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কৃত্রিম উপায়ে এই উপাদান গ্রহণ করলে অনেক সময় লিভার বা কিডনির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এবং সুন্দর ত্বক পেতে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *