অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! এই লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে প্রাণঘাতী

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি! এই লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে প্রাণঘাতী

গর্ভকালীন সময়টি প্রতিটি নারীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের হলেও বর্তমান জীবনযাত্রা ও শারীরিক পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে হৃদরোগের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে প্রতি এক লক্ষ প্রসবের মধ্যে অন্তত ৩ জন নারী হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। আগে গর্ভবতী নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম মনে করা হলেও ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। বছরে প্রায় ২২,৫০০ নারী গর্ভাবস্থা বা প্রসবজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছেন, যার অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

ঝুঁকি বাড়ার প্রধান কারণসমূহ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মধ্যে ১ থেকে ৪ জন কোনো না কোনো হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মূল কারণগুলো হলো:

  • অধিক বয়সে গর্ভধারণ: ৩৫ বছরের পর মা হওয়া হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • শারীরিক সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
  • আইভিএফ পদ্ধতি: কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিও অনেক সময় শরীরের রক্ত সঞ্চালনে বাড়তি চাপ দেয়।
  • রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি: গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের পুষ্টির জন্য শরীরে রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করতে হয়।

যে লক্ষণগুলো বিপদ সংকেত হতে পারে

অনেক সময় সাধারণ গর্ভাবস্থার অস্বস্তি মনে করে মহিলারা হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো এড়িয়ে যান। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

  • অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা।
  • প্রচণ্ড ক্লান্তি এবং বারবার মাথা ঘোরা।
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা বমি বমি ভাব।
  • পেটের ওপরের অংশে বা পিঠে তীব্র ব্যথা।

সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে মা ও শিশু উভয়েরই জীবন রক্ষা করা সম্ভব। গর্ভাবস্থায় যেকোনো শারীরিক অস্বাভাবিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *