অল্প বয়সেই কি হানা দিচ্ছে স্ট্রোক? মরণঝুঁকি এড়াতে আজ থেকেই মানুন এই ৫টি সহজ নিয়ম

অল্প বয়সেই কি হানা দিচ্ছে স্ট্রোক? মরণঝুঁকি এড়াতে আজ থেকেই মানুন এই ৫টি সহজ নিয়ম

স্ট্রোক মানেই এখন আর শুধু বার্ধক্যের রোগ নয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ৫০ বছর বয়সের আগেই অসংখ্য যুবক-যুবতী এই মরণব্যাধির শিকার হচ্ছেন। আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম, ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপই এই বিপদের মূল কারণ।

কেন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২৩ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন। স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলো হলো:

  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা: স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস এখন তরুণদের নিত্যসঙ্গী।
  • ভুল খাদ্যাভ্যাস: ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড খাবারের প্রতি আসক্তি এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হার্টের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
  • নেশা ও ধূমপান: তামাকজাত দ্রব্য এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
  • মানসিক চাপ: পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা পরোক্ষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
  • শারীরিক জটিলতা: মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা বা প্রসব-পরবর্তী জটিলতা এবং অনেকের ক্ষেত্রে জন্মগত হার্টের ত্রুটিও দায়ী হতে পারে।

নিজেকে রক্ষা করার ৫টি অব্যর্থ উপায়

সামান্য কিছু সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে এই মরণঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব:

১. সুষম আহার: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল রাখুন। অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি।

২. নিয়মিত ব্যায়াম: শরীরকে সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চা করার অভ্যাস করুন।

৩. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন: অতিরিক্ত স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত যোগব্যায়াম বা ধ্যান করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

৪. নেশা বর্জন: স্ট্রোক থেকে বাঁচতে ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা প্রয়োজন।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: রক্তচাপ, সুগার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তা জানতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কবার্তা

শরীরের কোনো একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা তীব্র মাথাব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্ত দেরি করবেন না। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *