কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি

কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির জটিলতা সরাসরি মানুষের শ্রবণশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের ফলে অন্তঃকর্ণের অতি সূক্ষ্ম রক্তনালি ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অনেক সময় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ঘটায়। এর ফলে কানের ‘কক্‌লিয়া’ অংশটি অকেজো হয়ে পড়ে এবং শব্দতরঙ্গ মস্তিষ্কে পৌঁছাতে বাধা পায়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে কানের সংবেদনশীল স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে পূর্ণ বধিরতা বা ‘টিন্নিটাস’-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। ভ্রূণ অবস্থায় কান ও কিডনির কোষীয় গঠন একই রকম হওয়ায় কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব কানেও পড়ে। রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো টক্সিন বা বর্জ্য বেড়ে গেলে তা কানের সূক্ষ্ম কোষগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা এবং কিডনি রোগের কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শোনার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে কানে একটানা ভোঁ-ভোঁ শব্দ হওয়া, অস্পষ্ট শোনা বা ভারসাম্যহীনতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ী এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারানোর আগেই লক্ষণ চিনে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাই কিডনি বা রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বছরে অন্তত একবার কানের পরীক্ষা করানো এবং উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *