ছত্রাকে ঠাসা ‘ব্লু চিজ’: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার নেপথ্যে থাকা স্বাস্থ্যগুণ

খাবারে ছত্রাক দেখলে সাধারণত আমরা তা বর্জন করি, তবে ‘ব্লু চিজ’-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। পেনিসিলিয়াম রকফর্টি নামক বিশেষ ছত্রাক দিয়ে তৈরি এই চিজের নীলচে শিরা-উপশিরা এবং তীব্র ঝাঁঝালো স্বাদ এখন ভোজনরসিকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। কৃত্রিমভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ছত্রাক প্রবেশ করিয়ে এবং বায়ু চলাচলের জন্য ছিদ্র তৈরি করে এই চিজ প্রস্তুত করা হয়। ইন্টারনেটে এই নীল চিজ নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু চিজ কেবল স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। এতে থাকা ছত্রাক ক্ষতিকারক ‘মাইকোটক্সিন’ উৎপন্ন করে না, বরং প্রোটিয়োলাইসিস ও লাইপোলাইসিস প্রক্রিয়ায় প্রোটিন ও ফ্যাট ভেঙে ফেলে। ফলে এই চিজ হজম করা সহজ এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি ছাড়াই শরীরে পুষ্টি জোগায়। সাধারণ চিজের তুলনায় এতে ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্লু চিজের ভূমিকা অপরিসীম বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এটি রক্তনালিতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এর প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের উপকারি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে হজমশক্তি উন্নত করে। এছাড়া স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতেও এই চিজ কার্যকর। ফ্রান্স বা ইতালির গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে ভারতীয় মহাদেশেও এই স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু চিজের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে।