হেয়ার এক্সটেনশনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের শঙ্কা

হেয়ার এক্সটেনশনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের শঙ্কা

কৃত্রিমভাবে চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব বাড়াতে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘হেয়ার এক্সটেনশন’ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই সৌন্দর্যচর্চার অন্ধকার দিকটি উন্মোচিত হয়েছে। ‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হেয়ার এক্সটেনশনে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্যে প্রায় ৯০০ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিকগুলো দীর্ঘমেয়াদে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যানসার ও প্রজননতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ৪৩টি ভিন্ন পণ্যের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে অর্গানোটিন, বেঞ্জিন এবং থ্যালেটের মতো বিষাক্ত উপাদানের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে বেঞ্জিন রক্তে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং থ্যালেট হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে বন্ধ্যাত্ব ডেকে আনতে পারে। এছাড়া এতে থাকা টেট্রাক্লোরোইথেন শ্বাসনালি ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। কৃত্রিম চুল দীর্ঘস্থায়ী করতে যেসব আঠা বা রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, তা সরাসরি রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং চুলের স্বাভাবিক কেরাটিন ও মেলানিন নষ্ট করে দেয়।

ফ্যাশন ও রিল বানানোর নেশায় কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সিরা এই কৃত্রিম পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। কিন্তু গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই রাসায়নিকগুলোর সংস্পর্শে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। চুলের গোড়া দুর্বল করে দেওয়া ছাড়াও এটি চর্মরোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সাময়িক সৌন্দর্যের মোহে অন্ধ না হয়ে প্রাকৃতিক চুলের যত্ন নেওয়া এবং এ ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য বর্জন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *