অ্যাপলের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে এখন অটোচালক! যুবকের এই জীবনযুদ্ধ হার মানাবে সিনেমাকেও

অ্যাপল ইনক-সহ একাধিক বড় কর্পোরেট সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন বেঙ্গালুরুর রাকেশ বি পাল। মোটা মাইনের চাকরি আর বিলাসবহুল জীবন থাকলেও সেই চাকচিক্যের আড়ালে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছিলেন অবসাদে। নিজেকে স্রেফ একটি ‘যন্ত্রাংশ’ মনে হতে শুরু করায় মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেন তিনি। একপর্যায়ে পারিবারিক বিবাদ ও প্রবল মানসিক চাপে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকতে হয় তাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিয়মিত অ্যান্টি ডিপ্রেশন ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
অন্ধকার এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে রাকেশ কঠোর শৃঙ্খলা ও শরীরচর্চার পথ বেছে নেন। মার্শাল আর্ট চর্চা শুরু করে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় রৌপ্য পদক জয় করেন তিনি, যা তার হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি কোনো কাজকেই ছোট মনে করেননি। একসময় নামী সংস্থায় কাজ করা এই ব্যক্তি নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় জিম পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে খাবার ডেলিভারি ও বাইক ট্যাক্সি চালানোর কাজও হাসিমুখে করেছেন।
দীর্ঘ চার বছরের কঠিন লড়াই শেষে রাকেশ এখন বেঙ্গালুরুর রাস্তায় নিজের ইলেকট্রিক অটো চালান। অবসরে নিজের শখ পূরণ করতে ছবি আঁকেন ও নাচ করেন। তথাকথিত সাফল্যের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে রাকেশ প্রমাণ করেছেন যে, উচ্চপদ বা কাড়ি কাড়ি টাকা নয়, বরং নিজের পছন্দমতো কাজ এবং মানসিক শান্তিই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। তার এই সাহসী জীবনযাত্রা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় নেটিজেনদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।