আইফেল টাওয়ারের চেয়েও বিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, কি ঘটবে ১৩ এপ্রিল?

আইফেল টাওয়ারের চেয়েও বিশাল গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে, কি ঘটবে ১৩ এপ্রিল?

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব। পাহাড়সমান বিশাল এক গ্রহাণু পৃথিবীর অত্যন্ত কাছ দিয়ে বয়ে যেতে চলেছে, যা ভারতের কিছু অংশ থেকে খালি চোখেই দেখা যাবে। প্রাচীন মিশরীয় বিশৃঙ্খলার দেবতার নামানুসারে এই গ্রহাণুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘৯৯৯৪২ অ্যাপোফিস’ (99942 Apophis)। আগামী ১৩ এপ্রিল ২০২৯ তারিখে এটি পৃথিবীর কক্ষপথের এতই কাছে চলে আসবে যে, আমাদের গ্রহকে প্রদক্ষিণরত কৃত্রিম উপগ্রহগুলোর বলয়ের ভেতর দিয়ে এটি অতিক্রম করবে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি পৃথিবীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না।

অ্যাপোফিস গ্রহাণুটি কোনো সাধারণ মহাকাশীয় শিলা নয়। এর গড় ব্যাস ৩৪০ থেকে ৩৭০ মিটারের মধ্যে এবং এর দীর্ঘতম অংশটি প্রায় ৪৫০ মিটারেরও বেশি বিস্তৃত। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের (৩৩০ মিটার) চেয়েও আকারে বড়। রাডার চিত্রে দেখা গিয়েছে যে, এর আকৃতি অনেকটা চিনাবাদামের মতো, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘বাই-লোবেট’ কাঠামো বলে অভিহিত করেন। ধারণা করা হয়, দুটি পৃথক বড় শিলাখণ্ড কয়েক কোটি বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে বর্তমানের এই বিশাল কাঠামোটি তৈরি করেছে। প্রতি সেকেন্ডে ৭.৪ কিলোমিটার গতিতে ধাবমান এই পাথুরে গ্রহাণুটি মূলত সিলিকেট শিলা এবং ধাতব নিকেল ও লোহার সমন্বয়ে গঠিত।

২০২৯ সালের এই ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’ বা পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় অ্যাপোফিস পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩২,০০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে চলে আসবে। এই দূরত্বটি মহাজাগতিক হিসেবে অত্যন্ত কম, কারণ ভূ-স্থির উপগ্রহগুলোও পৃথিবীর প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে। অর্থাৎ, আমাদের জিপিএস বা আবহাওয়া উপগ্রহগুলোর চেয়েও বেশি কাছ দিয়ে এটি উড়ে যাবে। তুলনামূলকভাবে, চাঁদ আমাদের থেকে ৩,৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যার তুলনায় অ্যাপোফিস প্রায় ১২ গুণ বেশি কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে।

২০০৪ সালে যখন এই গ্রহাণুটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তখন প্রাথমিকভাবে সংঘর্ষের ২.৭ শতাংশ সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ২০০৫ এবং ২০২১ সালের উন্নত রাডার ট্র্যাকিং ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে, অন্তত আগামী ১০০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর সঙ্গে অ্যাপোফিসের সংঘর্ষের কোনো আশঙ্কা নেই। এটি মহাকাশ গবেষকদের জন্য একটি বড় সুযোগ, যা থেকে তারা গ্রহাণুর গঠন এবং মহাজাগতিক গতিপথ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। মানবজাতির ইতিহাসে নথিবদ্ধ করা গ্রহাণুর অন্যতম নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য হতে চলেছে এই ঘটনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *