আকাশে এবার স্মার্ট হামলা! ঘাতক অস্ত্রে রূপান্তরিত হচ্ছে বায়ুসেনার ট্রান্সপোর্ট বিমান

ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা ও যুদ্ধ সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে অত্যন্ত আধুনিক ও সাশ্রয়ী এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘এয়ার-ড্রপড ক্যানিস্টারাইজড সোয়ার্ম’ (ADC-S) নামক এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সি-১৭ গ্লোবমাস্টার III, সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং সি-২৯৫-এর মতো সাধারণ পরিবহন বিমানগুলোও এখন থেকে শক্তিশালী আক্রমণকারী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো অত্যন্ত জটিল ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর ওপর সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভুল আঘাত হানা।
এডিসি-এস সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী, পরিবহন বিমান থেকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় বিশেষ কন্টেইনার বা ক্যানিস্টার ফেলা হবে, যার ভেতরে থাকবে ৬ থেকে ৮টি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ড্রোন। ক্যানিস্টারগুলো আকাশেই খুলে যাবে এবং সেখান থেকে ড্রোনগুলো বেরিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে হামলা চালাবে। ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লায় আঘাত হানতে সক্ষম এই ড্রোনগুলো ঘণ্টায় ৩৫০-৪০০ কিমি গতিতে উড়তে পারে। প্রতিটি ড্রোন প্রায় ৩০ কেজি ওজনের মারণাস্ত্র বহন করবে এবং জিপিএস সিগন্যাল না থাকলেও ৫ মিটারের মধ্যে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এতদিন এই ধরনের হামলার জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্রুজ মিসাইল বা যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন থেকে পরিবহন বিমান ব্যবহার করেই পাইলট ও বিমানকে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে রেখে হামলা চালানো যাবে। একই সঙ্গে ডজন ডজন ড্রোন বিভিন্ন দিক থেকে ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণ চালিয়ে শত্রুর আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত ও অকেজো করে দিতে পারবে।
পুরো প্রকল্পটি ‘মেক-২’ ও ‘বাই ইন্ডিয়ান-আইডিডিএম’ ক্যাটাগরির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এটি যেমন ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ও স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনের লক্ষ্যকেও ত্বরান্বিত করছে। এই প্রকল্পের আবেদনের সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এই সিস্টেমটি যুক্ত হলে যুদ্ধবিমান মোতায়েন না করেই শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে দ্রুত ও বিধ্বংসী হামলা চালানো ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য আরও সহজ হবে।