আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য চেয়ে সরাসরি মোদীকে চিঠি নিহতদের পরিবারের

আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ, ব্ল্যাক বক্সের তথ্য চেয়ে সরাসরি মোদীকে চিঠি নিহতদের পরিবারের

গত দশ মাস আগে আমদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরেই ঘটেছিল সেই ভয়াবহ বিপর্যয়। বোয়িং ৭৮৭-৮ এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই ১৭১ ভেঙে পড়েছিল একটি মেডিকেল কলেজের হস্টেলের ওপর। সেই অভিশপ্ত দুর্ঘটনায় ২৪১ জন বিমানযাত্রী ও ক্রু সদস্যের পাশাপাশি মাটিতে থাকা আরও ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও অজানাই রয়ে গিয়েছে। এবার সেই প্রকৃত সত্য এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির তথ্য জনসমক্ষে আনার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠালেন নিহতদের পরিবার।

শনিবার আমদাবাদে প্রায় ৩০টি শোকাতুর পরিবার একত্রিত হয়ে এই দাবি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তারা এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB), ডিজিসিএ এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন। শোকাতুর পরিবারের দাবি, ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ও ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’-এর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হোক। ২৪ বছরের ছেলেকে হারানো নীলেশ পুরোহিতের মতো অনেক অভিভাবকই জানিয়েছেন, তারা কোনো ক্ষতিপূরণ চান না, বরং তাদের প্রিয়জনদের সাথে ঠিক কী ঘটেছিল সেই স্বচ্ছতা চান।

অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে চালু করা সহায়তা ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন স্বজনহারা মানুষজন। ক্ষুব্ধ পরিবারগুলোর অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া জিনিসের যে তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে তার ছবি অত্যন্ত অস্পষ্ট। এছাড়া যোগাযোগের জন্য শুধুমাত্র একটি ইমেল আইডি থাকায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মা, ভাই ও মেয়েকে হারানো রোমিন ভোরার মতে, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের এমন প্রকাশ্য প্রদর্শন অত্যন্ত অসংবেদনশীল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইমেলের উত্তর পেতেও ১৫ দিনের বেশি সময় লাগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যদিও এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। জানা গিয়েছে, এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো গত জুলাই মাসে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী দুর্ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তির সময় অর্থাৎ চলতি বছরের জুন মাস নাগাদ চূড়ান্ত রিপোর্টটি প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ক্লান্ত পরিবারগুলো এখন কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *