আরব আমিরাতকে ৩৫০ কোটি ডলার ফেরত দিচ্ছে পাকিস্তান, মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়নের আশঙ্কা

চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানের ওপর চাপের পাহাড় তৈরি করে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ ফেরতের দাবি জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। চলতি এপ্রিল মাসেই ধাপে ধাপে এই বিপুল অর্থ আবুধাবিকে পরিশোধ করতে হবে ইসলামাবাদকে। এর ফলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত ইরান-ঘেঁষা কূটনৈতিক অবস্থানের কারণে উপসাগরীয় এই মিত্র দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতিকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই মাসে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ ছাড়াও ইউরোবন্ডের জন্য আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে পাকিস্তানের। এর ফলে দেশটির রিজার্ভ প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে পাকিস্তানি রুপির ওপর। মুদ্রার রেকর্ড অবমূল্যায়ন ঘটলে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা মুদ্রাস্ফীতি আরও লাগামহীন হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বে উপসাগরীয় দেশগুলো সংকটের সময় পাকিস্তানকে ছাড় দিলেও এবার আমিরাত ঋণের মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদী করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা ও সংঘাতের আবহে পাকিস্তানের ইরানের প্রতি ঝুঁকে পড়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আবুধাবি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইসলামাবাদের অগ্রাধিকার ও দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে পৃথকভাবে দেওয়া আরও ২ বিলিয়ন ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে টিকে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতি এখন গভীর সংকটের সম্মুখীন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, বিদেশের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য হাত পাতা জাতীয় আত্মমর্যাদার জন্য হানিকর। রপ্তানি হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা দেশটিকে এক গভীর কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ৩৫০ কোটি ডলারের এই বাধ্যতামূলক ঋণ পরিশোধ একদিকে যেমন পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতাকে স্পষ্ট করেছে, তেমনি ভুল কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশটি যে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, সেই ইঙ্গিতও জোরালো হচ্ছে।