ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো শত্রুর নাগালের বাইরে: দাবি মুখপাত্রের

ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি শত্রুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। গত বৃহস্পতিবার খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানাগুলো অত্যন্ত গোপনীয় স্থানে অবস্থিত, যার অবস্থান সম্পর্কে শত্রুপক্ষ সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব কৌশলগত স্থানে শত্রুদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।
মুখপাত্রের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্য আসাম্পূর্ণ এবং ভ্রান্ত। দেশটির কৌশলগত সক্ষমতা সম্পর্কে তারা এখনো পুরোপুরি অবগত নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের দূরপাল্লার ড্রোন, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরির স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। শত্রুপক্ষ যেসব স্থানে হামলা চালিয়ে সফল হওয়ার দাবি করছে, সেগুলো আসলে নগণ্য স্থাপনা মাত্র।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শত্রুদের পক্ষে ইরানের সামরিক শক্তি এবং সরঞ্জামের সঠিক হিসাব করা আসাম্ভব। ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের আগ্রাসনের জন্য আক্রমণকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র স্পষ্টভাবে জানান, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো স্থায়ীভাবে আত্মসমর্পণ ও অপমানিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। যেকোনো উস্কানির বিপরীতে ইরানের পরবর্তী সামরিক প্রতিক্রিয়া হবে আরও শক্তিশালী, ব্যাপক এবং ধ্বংসাত্মক।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিনা উস্কানিতে চালানো সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হলো। এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।