ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সবচেয়ে মারাত্মক মিসাইল টমহক ও JASSM-ER মোতায়েন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক ভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দূরপাল্লার মিসাইলগুলো মোতায়েন করেছে আমেরিকা। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ইরানের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে ৬০০ মাইলেরও বেশি পাল্লার স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল ‘JASSM-ER’ (Joint Air-to-Surface Missile-Extended Range) বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করা হচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই ১,০০০-টিরও বেশি এই ঘাতক মিসাইল ছুড়েছে মার্কিন বাহিনী। শত্রুপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এই মিসাইলগুলো বর্তমানে যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ মিসাইল ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রের ভাণ্ডারে বড়সড় টান সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার কাছে ২,৩০০টি JASSM-ER মিসাইল ছিল, যার মধ্যে এখন মাত্র ৪২৫টি অবশিষ্ট রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রিজার্ভ থেকেও এই মিসাইলগুলো সরিয়ে আনা হয়েছে, যা চিনের মতো অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় আমেরিকার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রায় ৭৫টি মিসাইল বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শূন্যস্থান পূরণ করতে আমেরিকার কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও উস্কে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে “প্রস্তর যুগে” ফিরিয়ে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইরানও বসে নেই। তারা ইতিমধ্যেই আমেরিকার বেশ কিছু F-15E, A-10 স্ট্রাইক জেট এবং ১২টির বেশি MQ-9 ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান পাল্টা জবাবে ১,৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় ৪,০০০ ‘শাহেদ’ ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে।
তীব্রতর এই যুদ্ধে আমেরিকা এখন B-52 এবং B-1B বোমারু বিমানের মাধ্যমে হামলা বৃদ্ধি করেছে। একদিকে সেনাদের জীবনের ঝুঁকি কমলেও, অন্যদিকে যুদ্ধের খরচ ও অস্ত্রের ঘাটতি দুই-ই বাড়ছে। লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ২০২৬ সালে ৩৯৬টি নতুন মিসাইল তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও, যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য। ফলে ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।