ইরান সংকটে বিপাকে ভারতের মৎস্যজীবীরা জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দামে বন্ধ হওয়ার মুখে ব্যবসা

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের উপকূলবর্তী রাজ্যগুলোর মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ওপর। ইরান সংকটের প্রভাবে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ হ্রাস পাওয়া এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সংকটে পড়েছেন গোয়া ও মহারাষ্ট্রের কয়েক হাজার মৎস্যজীবী। বর্তমানে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় রসদের অভাবে এই দুই রাজ্যের শত শত মাছ ধরার নৌকা তীরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধসের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীরা রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছেন। খোলা বাজারে একটি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মুম্বইয়ের কোলি সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবীদের মতে, একেকটি বড় নৌকায় ১৫ দিনের সফরে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাল্ক ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি কোনো কোনো উপকূলে এই দাম ১৩৮ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মৎস্যজীবীদের পকেটে বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপকূলীয় রাজ্যগুলোর জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ২.৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ সালে গোয়ার সমুদ্র থেকে প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা মূল্যের মাছ ধরা হয়েছিল, যার বড় অংশই আমেরিকা, চিন ও ইউরোপে রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে প্রায় ৩.৬৫ লাখ মানুষের জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। সিলিন্ডারের ঘাটতি ও ডিজেলের চড়া দামের কারণে মৎস্যজীবীরা এখন সমুদ্রযাত্রার সময় কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মৎস্য আহরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে কেবল মহারাষ্ট্র বা গোয়ার মৎস্যজীবীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভর্তুকি থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্ষুদ্র ও বৃহৎ উভয় প্রকার মৎস্যজীবীদের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।