ইসরায়েলকে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ ইরানে গ্রেপ্তার ৪৯

ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য আদান-প্রদান এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে কমপক্ষে ৪৯ জন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকারি ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে কেরমানশাহ, পশ্চিম আজারবাইজান, সেমনান এবং ফার্স প্রদেশে অভিযান চালিয়ে এই ব্যক্তিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মূলত শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং নিষিদ্ধ ইন্টারনেট সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কেরমানশাহ প্রদেশের পাবলিক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সেখান থেকে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে স্টারলিংক যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহার করে ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, বিদেশে সংবেদনশীল ছবি পাঠানো এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিচারিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই সময়ে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ থেকে ১৭ জন নাগরিককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ফার্স প্রদেশে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিদেশের একটি ফার্সিভাষী নেটওয়ার্কে পাচার করেছেন। পুলিশি তদন্তের পর মামলাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেমনান প্রদেশের শাহরুদ এলাকা থেকে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীকেও গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারী সামরিক ও সরকারি অবস্থান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠাতেন এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিক্ষোভে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমানে সমস্ত অভিযুক্তকে বিশেষ নজরদারিতে রেখে পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।