একানা স্টেডিয়ামে ২০ টাকার জল ১০০ টাকা! আইপিএলে ‘খাদ্য লুটের’ অভিযোগে ফুঁসছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা

লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় জলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ ২০ টাকার জলের বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তরুণ ক্রিকেটপ্রেমীর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। দর্শকদের দাবি, ম্যাচ দেখার উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে স্টেডিয়াম চত্বরে প্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর কয়েক গুণ বাড়তি দাম ধার্য করে কার্যত ‘লুট’ চালানো হচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জনৈক দর্শক ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানাচ্ছেন যে কেবল পানীয় জলই নয়, ২০ টাকার চিপসের প্যাকেটও ভেতরে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগেও লখনউয়ের এই ভেন্যুতে অতিরিক্ত দাম রাখা নিয়ে দর্শকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ার ভিডিও সামনে এসেছিল। আইপিএল চলাকালীন স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের এই একচেটিয়া বাণিজ্যিক মনোভাব সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল দুনিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, একদিকে আইপিএল যেখানে বেটিং ও গেমিং অ্যাপের প্রচারে মগ্ন, অন্যদিকে সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে পানীয় জলের মতো মৌলিক প্রয়োজনেও মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ‘ওপেন লুট’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ক্ষুব্ধ ভক্তদের একাংশ স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা বয়কট করারও ডাক দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ এই ধরণের অন্যায্য দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়।
চলতি ২০২৬ সালের আইপিএল সিজনে টেলিভিশন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকসংখ্যা রেকর্ড ভাঙলেও, মাঠে গিয়ে খেলা দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতা গ্যালারির সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিনেমা হল বা কনসার্টের মতো জায়গায় দাম বেশি হওয়ার যুক্তি কেউ কেউ দিলেও, পানীয় জলের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে করছেন না ক্রিকেটপ্রেমীরা। এখন দেখার বিষয়, দর্শকদের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ নিরসনে আইপিএল কর্তৃপক্ষ কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।