কাশীর মন্দিরে মিলল চমক, প্রসাদে মিষ্টি নয় মিলবে চকোলেট ও বিস্কুট

বারাণসী বা কাশী বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাবা বিশ্বনাথের মহিমা। তবে এই পবিত্র শহরের অলিগলিতে লুকিয়ে রয়েছে এমন এক মন্দির, যেখানে দেবতাকে তুষ্ট করতে ভক্তরা কোনো দামি মিষ্টি বা ফল নিয়ে আসেন না। বারাণসীর কামাচ্ছায় অবস্থিত বটুক ভৈরব মন্দিরে দেবতার প্রিয় ভোগ হলো চকোলেট, টফি এবং বিস্কুট। শিবের শিশু রূপ বা ‘বটুক’ রূপকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই অনন্য ঐতিহ্য, যা সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে পর্যটকদের অবাক করে দেয়।
ধর্মীয় শাস্ত্র মতে, বটুক ভৈরব হলেন কাল ভৈরবের এক শান্ত, করুণাময় এবং শিশুসুলভ অবতার। ‘বটুক’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো বালক বা শিশু। ঠিক যেমন ছোট শিশুদের খুশি করতে আমরা মিষ্টি বা চকোলেট উপহার দিই, ভক্তরাও এখানে পরম স্নেহে বাবাকে খুশি করতে খেলনা এবং আধুনিক মিষ্টান্ন নিবেদন করেন। এই মন্দিরে দেবতাকে কোনো কঠোর অনুশাসনে নয়, বরং ঘরের সন্তানের মতো আদর ও যত্নে পুজো করা হয়।
তান্ত্রিক সাধনার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরে ভক্তরা মূলত সন্তানদের মঙ্গল কামনায় ভিড় জমান। বিশ্বাস করা হয়, এখানে বটুক ভৈরবের পুজো দিলে সন্তানদের ওপর আসা সমস্ত বিপদ ও নেতিবাচক বাধা দূর হয়। এছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, জন্মকুণ্ডলীতে রাহু বা কেতুর অশুভ প্রভাব কাটাতে এবং শারীরিক-মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে এই মন্দিরের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ভক্তরা মন্দিরের যজ্ঞকুণ্ডে আচার পালন করেন এবং নিজেদের মনস্কামনা পূরণের আশায় দেবতার চরণে চকোলেট ও টফি অর্পণ করেন।