কোটিপতি দিলীপ ঘোষের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্য, দেড় কোটির ফ্ল্যাট ও বিপুল জমি

২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনে খড়গপুর সদর থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন দিলীপ ঘোষ। শনিবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন দাখিলের সময় তিনি নিজের সম্পত্তির যে হলফনামা দিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে গত এক দশকে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থায় বড় বদল এসেছে। বর্তমানে দিলীপ ঘোষ একজন কোটিপতি এবং তিনি তাঁর পূর্বের সমস্ত ঋণ থেকেও সম্পূর্ণ মুক্ত বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
দিলীপ ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ ৩.৫ লক্ষ টাকা রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে তাঁর বিনিয়োগ আছে। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮০৫ টাকা এবং তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষের অস্থাবর সম্পত্তি প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা। আবাসন ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে ঘোষ দম্পতির। ২০২২ সালে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স এলাকায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বিশাল ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর নামে রাজারহাটে ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বর্তমানে দিলীপ ঘোষের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ২ কোটি ১০ হাজার টাকা।
হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জমিজমার বিবরণও উঠে এসেছে। ১৯৮০ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৮২ সালে ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করা দিলীপ ঘোষের পৈতৃক বসতবাড়ির পাশাপাশি মেদিনীপুরে ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১.৮৮ একর কৃষি জমিও রয়েছে। ২০১৯ সালে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ের সময় তাঁর মোট সম্পত্তি ছিল ৪৫ লক্ষ টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকায়। সেই সময়কার ৫০ লক্ষ টাকার ঋণও তিনি ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন।
সম্পত্তির খতিয়ানের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আইনি মামলাগুলির তথ্যও হলফনামায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও বিধাননগরের বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি এফআইআর এবং একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ষড়যন্ত্র, দাঙ্গা ও খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে পরাজয়ের পর, এবার খড়গপুর সদরের প্রার্থী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ও আর্থিক স্থিতির পূর্ণ বিবরণ দিয়ে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হলেন এই প্রবীণ নেতা।