চন্দ্রাভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানে শৌচালয় বিপর্যয়, বিপাকে চার মহাকাশচারী

চাঁদের অভিমুখে পাড়ি দেওয়া নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানে দেখা দিয়েছে এক অদ্ভুত বিপত্তি। উৎক্ষেপণের পর থেকেই মহাকাশযানটির শৌচালয় থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চার মহাকাশচারী। নাসা সূত্রে খবর, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে শৌচালয়ে প্রস্রাব পুরোপুরি ফ্লাশ করা যাচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ারদের ধারণা, বরফ জমে যাওয়ার ফলেই ফ্লাশ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মিশন কন্ট্রোল থেকে মহাকাশচারীদের বিকল্প হিসেবে প্রস্রাব জমা রাখার বিশেষ ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এই ক্যাপসুলের শৌচালয় পরীক্ষা করা হলেও মহাকাশে গিয়ে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
বিপত্তি সত্ত্বেও ওরিয়ন তার লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি পথ অতিক্রম করে ফেলেছে। কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হানসেন সোমবার গন্তব্যে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর ছোট হয়ে আসা এবং চাঁদের আকার ক্রমে বড় হওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও ছবি শেয়ার করেছেন ভিক্টর গ্লোভার। নাসার ওরিয়ন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ডেবি কর্থ জানিয়েছেন, মহাকাশে শৌচালয় ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকায় মহাকাশচারীরা আপাতত সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
আর্টেমিস-২ অভিযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় চার লক্ষ কিলোমিটার দূরে গিয়ে চাঁদের চারপাশ থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবে। পথিমধ্যে এটি কোথাও থামবে না বা চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে না। ওরিয়ন মহাকাশযানের এই যাত্রাপথটি ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে। মহাকাশের তীব্র প্রতিকূলতা এবং যান্ত্রিক জটিলতাকে সঙ্গী করেই চার অভিযাত্রী তাদের চন্দ্রাভিযান অব্যাহত রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন যাতে শৌচালয়ের দুর্গন্ধ বা যান্ত্রিক ত্রুটি অভিযানের মূল লক্ষ্যে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।