জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ অফিস ও বিয়েবাড়ির আলোকসজ্জাতেও কোপ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ লাইনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সংরক্ষণের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিপণিবিতানের সময়সীমা কমিয়ে আনার পাশাপাশি সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এই সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে ঢাকা।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিস এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও জরুরি খাদ্যপণ্যের দোকানগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। সরকারের শীর্ষ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, আমদানিকৃত গ্যাস ও ডিজেলের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমাতে এবং সরবরাহ লাইনের ঝুঁকি এড়াতেই এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। নতুন যানবাহন ও কম্পিউটার ক্রয় বন্ধ রাখার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ মিশন স্থগিত এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অর্ধেক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহার অন্তত ৩০ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। এমনকি স্কুল-কলেজের সময়সূচি পরিবর্তনের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
সংকটকালীন এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি রুখতে মাঠ পর্যায়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে প্রশাসন। গত এক মাসে প্রায় ৫,০০০ অভিযানে চার লক্ষ লিটার অবৈধ জ্বালানি জব্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। কৃষি খাতে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।