ডেডলাইন শেষ, ইরান কি এবার আমেরিকার নিশানায় ট্রাম্পের, চরম হুঁশিয়ারিতে কাঁপছে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে রণংদেহি মূর্তি ধারণ করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে দেওয়া ১০ দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হতে চলায় পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে মঙ্গলবার থেকেই ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’।
এর আগেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান পিছু না হটলে তাদের বিদ্যুৎ, জল এবং তেল সংক্রান্ত পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরের ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশাল বি-১ (B1) সেতুটি ধ্বংস হওয়ার পর থেকেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, ১০৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ধ্বংস হওয়ায় ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের এবারের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরান ট্রাম্পের এই হুমকিকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা হলে ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সহযোগী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও গত ১০ দিনে কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি। ফলে আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হয় এই কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এই জলপথ বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা প্রবল। এখন দেখার বিষয়, ডেডলাইন পার হওয়ার পর ট্রাম্প তার ঘোষণা অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ নেন নাকি কূটনৈতিক পথে কোনো রফাসূত্র মেলে। আপাতত দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বের তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।