দার্জিলিং টয়ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়, হিমালয়ান রেলওয়ের আয় ও যাত্রী সংখ্যায় সর্বকালীন রেকর্ড

ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখল। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে টয়ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই আয়ের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের তুলনায় যাত্রী সংখ্যায় প্রায় ১৭.৭২ শতাংশ এবং আয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করল যে পাহাড়ের রানি দার্জিলিং এবং তার হেরিটেজ ট্রেনের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ আজও অমলিন।
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে টয়ট্রেনের মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩ জন এবং আয় হয়েছিল ২২ কোটি ১২ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৫৫ টাকা। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৩২ জনে। আয়ের অঙ্কটিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ কোটি ৩৭ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে। মূলত পরিষেবার আধুনিকীকরণ এবং ঐতিহ্যের যথাযথ সংরক্ষণের ফলেই এই লক্ষ্মীলাভ সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের মতে, পর্যটকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ, উন্নত পরিকাঠামো এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। রেলের এই রেকর্ড বৃদ্ধি কেবল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জন্যই খুশির খবর নয়, এটি পাহাড়ের সামগ্রিক অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করে তুলেছে। পর্যটন নির্ভর বহু মানুষের কর্মসংস্থানে এই সাফল্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ভবিষ্যতেও এই হেরিটেজ রেলপথকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে আধুনিক পরিষেবার মাধ্যমে পর্যটকদের আরও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সস্তায় ভ্রমণের সেরা ঠিকানা হিসেবে দার্জিলিং যেভাবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তাতে আগামী মরশুমগুলোতে আয়ের পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করল।