দিল্লি বিমানবন্দরে ‘কাদু’ ও ‘ঢোলু’ নিখোঁজ, কুকুর নিগ্রহের অভিযোগে উত্তাল নেটদুনিয়া

দিল্লি বিমানবন্দরের অতি পরিচিত ও শান্ত স্বভাবের দুই সারমেয় ‘কাদু’ এবং ‘ঢোলু’ নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৬ মার্চ থেকে কাদু নিখোঁজ এবং সাফাই কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক সরিয়ে নিয়ে গেছেন। পশু অধিকার কর্মীদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি থেকে নামানোর সময় কুকুরগুলো অত্যন্ত দিশেহারা অবস্থায় ছিল, যা থেকে তাদের ওপর ইনজেকশন বা অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগের সন্দেহ করা হচ্ছে। ভারতের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী কোনো পথকুকুরকে বন্ধ্যাকরণ ও টিকাকরণের পর তার নিজস্ব এলাকাতেই ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, এক্ষেত্রে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পশুপ্রেমীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই নিয়মিত টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণ নিশ্চিত করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, গত তিন মাসে বিমানবন্দর এলাকায় ৩০টিরও বেশি কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ‘ঢোলু’ নামের কুকুরটি গত ৩০ ও ৩১ মার্চ যাত্রীদের কামড়েছিল এবং তাড়া করেছিল বলে অভিযোগ আসায় তাকে সাময়িকভাবে আটকে রেখে পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কাদু নামের কুকুরটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পেরেছে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমাজমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদল মানুষ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে, পশু অধিকার কর্মীরা একে “অসহায় প্রাণীদের প্রতি নৃশংসতা” হিসেবে বর্ণনা করে প্রচলিত প্রাণী আইন মেনে চলার দাবি তুলেছেন। প্রশাসনের দাবি বনাম পশুপ্রেমীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দিল্লি বিমানবন্দরের প্রাণী সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।